
দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও শেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব জানে আলম খোকার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শেরপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপিতে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।
রোববার বিকেলে শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবুল বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা মোবাইল ফোনে তাকে এবং শেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি স্বাধীন কুমার কুন্ডুকে বিষয়টি অবহিত করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের সাংগঠনিক শক্তি জোরদারের লক্ষ্যে গত ১৮ ডিসেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের বাসভবনে শেরপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দের একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সর্বসম্মতিক্রমে জানে আলম খোকার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জোর সুপারিশ করা হয়।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আগামী দিনের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান দলীয় নেতারা।
শেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি স্বাধীন কুমার কুন্ডু বলেন, ‘দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ জটিলতা নিরসনের পথ খুলে গেছে। এখন সবাই মিলেমিশে দলের জন্য কাজ করব।’
বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আলহাজ্ব জানে আলম খোকা আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন এবং দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সব ভুল-ভ্রান্তি ও মান-অভিমান ভুলে আমরা হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। জাতীয়তাবাদী দলকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দলের এই ঐক্যের মধ্যে যেন কোনো তৃতীয় শক্তি অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেরপুর বিএনপির এই ঐক্য স্থানীয় রাজনীতিতে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও সুসংহত করবে।




