
গতকাল ইসকনের সদস্যরা এক ইমাম সাহেবকে গুম করে পঞ্চগড় সীমান্তে শিকল বেঁধে ফেলে রাখে, এটি একটি চরম নৃশংস ঘটনা। এর কয়েকদিন আগেই এক হিন্দু ছেলে কর্তৃক এক মুসলিম তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়, আর সেই অপরাধকেও পুলিশ রহস্যজনকভাবে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রশ্ন জাগে তারা কার ভয়ে চুপ? কার স্বার্থে এই নীরবতা?
বাংলাদেশে বহু বছর ধরে ইসকনের মতো হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে আসছে। নামাজের সময় বাদ্যবাজনা বাজানো, মসজিদের সামনে উস্কানিমূলক শোভাযাত্রা, রাস্তা জুড়ে ধর্মীয় স্লোগান, এসব যেন তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো রাষ্ট্র, প্রশাসন, মিডিয়া কিংবা রাজনীতিবিদরা এর বিরুদ্ধে কী করছে? বাস্তবতা হচ্ছে তারা চুপ। বরং অনেক সময় উল্টো ভুক্তভোগী মুসলমানদেরকেই অভিযুক্ত করা হয়।
যখন কোনো মুসলিম আক্রান্ত হয়, তখন মিডিয়া ঘটনাকে “সাম্প্রদায়িক সহিংসতা” না বলে “দুই পক্ষের সংঘর্ষ” বলে চালিয়ে দেয়। আর যখন কেউ প্রতিবাদ করে, তখন তাকেই “উগ্র” বলে চিহ্নিত করা হয়। অথচ যারা ইসলামবিদ্বেষ ও হিন্দুত্ববাদী উগ্রতা ছড়াচ্ছে, তারা নির্দ্বিধায় পার পেয়ে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় কাঠামো, প্রশাসন এবং তথাকথিত সুশীল সমাজ সবাই যেন এক অদৃশ্য চুক্তিতে বাঁধা।
এই অবস্থায় কেবল সরকার, প্রশাসন বা মিডিয়ার দিকে তাকিয়ে থাকা অর্থহীন। কারণ, বাস্তবতা হলো, রাষ্ট্র এই সমস্যার সমাধান করবে না। বরং অনেক সময় রাষ্ট্রই এই অপরাধগুলো আড়াল করে রাখে, যেন কিছুই ঘটেনি।
এখন সময় এসেছে নতুন করে ভাবার। ইসকনের মতো সংগঠন শুধু ধর্মীয় উসকানিমূলক নয়, এটি এক আদর্শিক আগ্রাসনের অংশ। তারা দেশের ভেতরে থেকে মুসলিম সমাজকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, আমাদের ঈমানি চেতনা ও সামাজিক ঐক্যে আঘাত হানছে।
সাম্প্রতিক ধর্ষণ ও গুমের ঘটনাগুলো নিছক ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, এগুলো আমাদের সমাজের নৈতিক ও আত্মিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। যদি এগুলোর পেছনে সংগঠিত কোনো ষড়যন্ত্র থাকে, তবে তা দেশের স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য বড় হুমকি।
প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা এই প্রশ্ন তোলে আমাদের নিরাপত্তা কে দেবে? নাগরিকদের জীবনের মূল্য কি এতটাই তুচ্ছ?
আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই এসব অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী যে ধর্ম বা সংগঠনেরই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া চলবে না।
কিন্তু একইসাথে আমাদেরও আত্মসমালোচনা দরকার। আমরা কি কেবল ঘটনাগুলোর নিন্দা জানিয়ে দায় শেষ করছি? তাই এখনই সময় প্রশাসনের পদক্ষেপের পাশাপাশি আমাদের সমাজকেও নৈতিকতা ও ঈমানি চেতনায় সংগঠিত হতে হবে। পরিবার, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সব জায়গায় ইসলামি নৈতিকতার চর্চা জোরদার করতে হবে।
ইসকনের মতো সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা শুধু একটি পদক্ষেপ; আসল প্রতিরোধ হবে তখনই, যখন সমাজের প্রতিটি মুসলিম ঘর হবে নৈতিকতার দুর্গ, প্রতিটি তরুণ হবে ঈমানদার ও সচেতন নাগরিক।
উগ্রতা নয়, ন্যায়, ঐক্য ও নৈতিক শক্তি—এটাই হবে বাস্তব প্রতিরোধ।
🖋️ হাফেজ ইব্রাহিম তুরাক
শিক্ষার্থীঃ আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো মিশর।




