২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ভারতে তীব্র হচ্ছে বাংলাদেশ বয়কট আন্দোলন কলকাতায় বাংলাদেশিদের সব দরজা বন্ধ

spot_img

বাংলাদেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবৈধ আশ্রয় দেওয়ার পর থেকে একের পর এক নানা ছলছুতায় বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে ভারত। এবার সেখানে শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ বয়কট’ আন্দোলন।

গত কয়েকদিন আগে থেকে বাংলাদেশ বয়কট আন্দোল শুরু হলেও এর তেমন একটা প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছিল না। কিন্তু ভারতের বিভিন্ন স্থানে ক্রমেই বাংলাদেশ বয়কট আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করছে এবং বাংলাদেশিদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ বিরোধী এই আন্দোলন ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সেখানকার আবাসিক হোটেল মালিকরা বাংলাদেশিদের জন্য সব হোটেলের দরজা বন্ধ ঘোষণা করেছেন।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী চার জেলায় বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ঘর ভাড়া দেওয়া বন্ধ করলেন হোটেল মালিকরা। শিলিগুড়ি, মালদা, কোচবিহারের হোটেল ব্যবসায়ীরা আগেই বাংলাদেশিদের জন্য নো রুম ঘোষণা করেছিলেন।

এ বার তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের হোটেল মালিকরাও। রীতিমতো পোস্টার সেঁটে জানিয়ে দেওয়া হলো, আপানারা আমাদের দেশকে অসম্মান করছেন। তাই আপনাদের ঘর ভাড়া দেওয়া যাবে না।

গত কয়েকদিনে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে ভারতের বিভিন্ন শহরে। এর পরপরই বাংলাদেশি নাগরিকদের রুম ভাড়া দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা। এমন পরিস্থিতিতেও মূলত চিকিৎসার কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে প্রতিদিনই কিছু মানুষ ভারতে যাচ্ছেন।

কোচবিহারের সব হোটেলের রিসেপশনে বাংলাদেশিদের ঘর দেওয়া যাবে না বলে ফ্লেক্স এবং নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী চ্যাংড়াবান্ধার হোটেলেও একই অবস্থা।

কোচবিহার হোটেল ওনার্স–এর পক্ষে রাজু ঘোষ বলেন, ‘আমার হোটেলে ফ্লেক্স লাগিয়েছি। বাংলাদেশিদের ব্যাপারে আমরা কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কোচবিহারের আরেক হোটেল ব্যবসায়ী বলেন, ‘ব্যবসায় ক্ষতি হলে হোক, কিন্তু দেশের নামে যারা দুর্নাম ছড়াচ্ছে, তাদের সঙ্গে কোনওরকম ব্যবসা না করাই উচিত।‘আমাদের দেশকে দিচ্ছ না তোমরা সম্মান, তাই তোমাদের জন্য আমাদের দেশে ঠাঁই নাই ।

এই পোস্টার সাঁটিয়ে বালুরঘাটের হোটেল ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশিদের জন্য হোটেলের দরজা বন্ধ করেছেন।

মালদা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আগে ভারত–বিরোধী স্লোগান বন্ধ করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে শান্তির পরিবেশ। তবেই মালদার হোটেলগুলি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দরজা খোলা হবে।

বালুরঘাট শহর ও শহর লাগোয়া এলাকায় ছোট–বড় মিলিয়ে ২২টি হোটেল রয়েছে। শিবেন লাহা নামে এক হোটেল মালিক বলেন, ‘আমরা বালুরঘাটের হোটেল ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, কোনও বাংলাদেশি নাগরিককে হোটেল ভাড়া দেব না। দেশের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে ভারতের মালদায় গিয়ে হোটেল না পেয়ে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন বহু বাংলাদেশি। হোটেলে আশ্রয় না মেলায় কেউ টাউন স্টেশনে, কেউ আবার বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছেন কলকাতা বা অন্য রাজ্যের গাড়ি ধরতে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রচণ্ড কড়াকড়ি সত্ত্বেও গত তিনদিনে দশজনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক এদেশে প্রবেশ করেছেন। শিলিগুড়িতে হোটেল না পেয়ে তাঁরা ঘর ভাড়া খুঁজছেন বলে জানা গিয়েছে। সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেন, ‘বৈধ ভাবে যাঁরা আসছেন, তাঁদের তো কোথাও না কোথাও থাকতেই হবে। বিষয়টি স্পর্শকাতর। আমরা নজর রাখছি।’

ইতিমধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর দিয়ে লোক পারাপারের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। এখন গড়ে ১০০ জন লোক পারাপার করছেন বলে অভিভাসন সূত্রে জানা গেছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মহদিপুর সীমান্তে কয়েকজন বাংলাদেশি পর্যটক বলেন, ‘এখন মালদায় থাকতে পারছি না। কোনও হোটেলে ঘর দেওয়া হচ্ছে না। দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য সাধারণ নাগরিকরা দায়ী নন। অথচ ভারতে এসে হোটেল না পেয়ে আমাদের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে।
……………………………………….
এফ শাহজাহান
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
……………………………………….

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ