
মো: আব্দুল হান্নান:
আজ ১লা মে। বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’ বা ‘মে দিবস’। এটি মূলত ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মরণে পালিত একটি দিন, যা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সংগ্রাম ও বিজয়ের প্রতীক। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে এটি জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে উদযাপিত হয়।
এ সুন্দর পৃথিবীর রূপ-লাবণ্য আর আধুনিক সভ্যতার কারুকার্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান যাদের, তারা হলেন মেহনতি শ্রমিক। আকাশচুম্বী অট্টালিকা থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানা সবখানেই মিশে আছে শ্রমিকের তপ্ত নিঃশ্বাস আর ঘামের গন্ধ। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সভ্যতার এই রূপকাররা বরাবরই সমাজের সবচেয়ে উপেক্ষিত, অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণি হিসেবে রয়ে গেছেন।
ইসলাম ধর্মে স্বহস্তে উপার্জনকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কারো জন্য নিজ হাতের উপার্জন অপেক্ষা উত্তম আহার আর নেই”।শ্রম কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি মানুষকে অলসতা ও ভিক্ষাবৃত্তি থেকে রক্ষা করে স্বাবলম্বী করে তোলে। নবী ও রাসুলগণও পরিশ্রমী ছিলেন। যেমন আদম (আ.) কৃষক, দাউদ (আ.) কর্মকার এবং ইদ্রিস (আ.) দর্জি ছিলেন।
ইসলাম শ্রমের মর্যাদার পাশাপাশি শ্রমিকের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। শ্রমিকের কাজ বুঝে নেওয়ার পর দ্রুত মজুরি পরিশোধ করা ইসলামের মৌলিক নির্দেশ। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি পরিশোধ না করা ইসলামে একটি জঘন্য অপরাধ, অন্যায় এবং কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিয়ে দাও”। যারা কাজ করিয়ে মজুরি দেয় না, এ ধরনের মালিকদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন, ‘মহান আল্লাহ বলেন, ক্বিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে। তাদের মধ্যে একজন হ’ল-‘যে শ্রমিকের নিকট থেকে পূর্ণ শ্রম গ্রহণ করে অথচ তার পূর্ণ মজুরী প্রদান করে না’। (বুখারী, মিশকাত)। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে মজুরি পরিশোধ করা মালিকের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করলে মালিকের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে।
পরিশেষে, শ্রমিকের মুখে হাসি ফোটাতে এবং একটি বৈষম্যহীন ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনে ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা কেবল একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তা প্রাত্যহিক অভ্যাসে পরিণত করার কোনো বিকল্প নেই।




