২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়, লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে গেল আর্জেন্টিনা

spot_img

বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলে স্পেন। আর্জেন্টিনার লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে ১-০ গোলের ব্যবধানে বিশ্বকাপ জয় করলো স্পেন। একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখল আর্জেন্টিনার রক্ষণ। লামিন ইয়ামাল, রদ্রি, দানি ওলমোদের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সে দারুণসব আক্রমণ শাণীয়েও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পেল না স্প্যানিশরা। ওদিকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতেই হিমশিম খাওয়া আর্জেন্টাইনরাও মেলে ধরতে পারেছিলেন না নিজেদের। দ্বিতীয়ার্ধেও দেখা মিলল একই চিত্রের। লুই দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা বারবার গোলের কাছে গিয়েই খেই হারাচ্ছিলেন। আর রক্ষণ সামলে স্পেনের বক্সেই যেতে পারছিলেন মেসিরা, উল্টো যোগ করা সময়ে এঞ্জো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখলে আলবিসেলেস্তেরা পরিণত হয় দশ জনের দলে। এদিকে গোলখরার ম্যাচটি নির্ধারিত নব্বই মিনিট শেষে গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধেই দুর্দান্ত আক্রমণ থেকে নিকো উইলিয়ামসের পাসে বল পেয়ে দারুণ এক ভলিতে গোল করলেন বদলি নামা ফেরান তোরেস। তাঁর এই গোলেই দশজনের আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল স্পেন।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম শিরোপা জিতেছিল স্পেন। সেবার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। প্রথম ট্রফি জয়ের ২৬ বছর পর এসে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেল ইউরোপিয়ান পরাশক্তি দলটি। একই সঙ্গে ইউরো জয়ের পর বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডও গড়লেন লামিন ইয়ামালরা।
নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে দুই দলই নেমেছে শক্তিশালী একাদশ নিয়ে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলেছে স্পেন। ম্যাচের শুরুতেই দলকে এগিয়ে দেওয়ার দারুণ এক সুযোগও পেয়েছিলেন লামিন ইয়ামাল। তবু তরুণ এই তারকা গোলের দেখা পাননি। ম্যাচের ৫ মিনিটেই বক্সের ভেতরে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। দারুণ এক শটও নিয়েছিলেন, কিন্তু এমি মার্তিনেজের দেয়াল টপকে জালের দেখা পাননি।
এদিকে ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ হাতছাড়া করা স্পেন প্রথমার্ধের খেলার নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল নিজেদের কাছেই। বল দখলে রেখে দলীয় সমন্বয়ে বেশ কয়েকবারই নিপুণ আক্রমণ গড়েছে দলটি। গোলের লক্ষ্যে নিয়েছে বেশ কয়েকটি শট। আর্জেন্টিনার রক্ষণকে ফাকি দিয়ে তৈরি করেছে গোলের সুযোগ। তবে সেসব কাজে লাগাতে পারেনি।
এদিকে প্রথমার্ধে স্পেনের একের পর এক আক্রমণের বিপরীতে আর্জেন্টিনার রক্ষণ কিছুটা ভুগেছে, তেমন একটা আক্রমণের সুযোগও তৈরি করতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে একবারও বল স্পর্শ করতে পারেনি আর্জেন্টিনা।
এদিকে আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৩৯ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। তবে মিকেল ওয়ারজাবাল শট নিলেও তা ঠেকিয়ে দেন আলবিসেলেস্তে গোলরক্ষক মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত কোনো দলই গোল করতে না পারায় প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।
প্রথমার্ধের মত বিরতির পরও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে স্প্যানিশরা। ৬৮ মিনিটে ইয়ামালের ক্রস থেকে হেডে গোলের চেষ্টার করেছিলেন ফেরান তোরেস। তবে মার্তিনেজও এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান। এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আরও বেশ কয়েকটি আক্রমণে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল স্প্যানিশরা। তবে কোনোভাবেই জালের দেখা পায়নি দলটি। স্প্যানিশরা যখন গোলের দেখা না পেয়ে ক্লান্ত, ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর খুব কাছে তখনই দুঃসংবাদ ডেকে আনেন এঞ্জো ফার্নান্দজ। পাউ কুবার্সিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এঞ্জোকে। ফলে যোগ করা সময়ে দশ জনের পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
এদিকে দশ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর আর্জেন্টিনার রক্ষণে আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় স্প্যানিশরা। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি কমলেও নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা পায়নি দলটি। আর্জেন্টিনাও জালের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়েও আর্জেন্টিনা স্পেনের আক্রমণ থামিয়েছে বেশ ভালোভাবেই। ইয়ামালরা বারবার রক্ষণে ভয় ধরালেও গোল করতে দেননি মেসিরা। তবে অবশেষে ডেডলক ভাঙে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় ভাগে। দলীয় আক্রমণ থেকে গোল করার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন নিকো উইলিয়ামস। তবে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার চ্যালেঞ্জ জানানোয় এবং মার্তিনেজ কাছেই থাকায় হেড করে তিনি বল পাস দেন তোরেসের দিকে। সেই বল পেয়ে দারুণ এক ভলিতে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তোরেস। স্পেন পায় লিডের দেখা।

এরপর আরও একবার জালের দেখা পেয়েছিলেন তোরেস। তবে তাঁর সেই গোল বাতিল হয় ইফসাইডে। এদিকে অন্তিম মুহূর্তে গোল খেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল আর্জেন্টিনা। তবে শেষ মুহূর্তের সেসব প্রয়াস আর আলোর মুখ দেখেনি। শেষ মূহুর্তে তোরেসের সেই গোলেই ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সুখ থেকে বঞ্চিত হয় আলবিসেলেস্তেরা। আর নিজেদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে স্প্যানিশরা।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ