
বগুড়ায় ব্যবসায়ী রাহুল যাদবের আত্মহত্যার ঘটনায় সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার রাতে বগুড়া সদর থানা-য় মামলাটি করেন নিহতের বাবা নামাজগড় ডালপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী নিরঞ্জন গোয়ালা।
মামলার আসামিরা হলেন—রাহুলের সাবেক স্ত্রী প্রিয়া রানী মহন্ত (২৮), তাঁর বর্তমান স্বামী হৃদয় মহন্ত (২৫) ও প্রিয়ার বাবা প্রদীপ মহন্ত। সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে রাহুল যাদবের সঙ্গে প্রিয়া রানীর বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই হৃদয় মহন্তের সঙ্গে প্রিয়ার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মেয়েকে কোচিং সেন্টারে নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন প্রিয়া রানী। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি। পরে হৃদয় মহন্তকে বিয়ে করেছেন উল্লেখ করে একটি হলফনামা পাঠান। এ সময় নগদ ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও ২৬ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, স্ত্রীর চলে যাওয়া, অর্থ ও স্বর্ণালংকার হারানোর ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন রাহুল যাদব। এর জের ধরে গত বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়ে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করেন তিনি। পরে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেদিন রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসেও নিজের কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেছিলেন রাহুল।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।




