
বগুড়া শহরের দীর্ঘদিনের ভয়াবহ যানজট নিরসন, নিরাপদ ও আধুনিক রেল যোগাযোগ নিশ্চিতকরণ এবং পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে শহরকে বাইপাস করে নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথের রাণীরহাট জংশন থেকে বগুড়া শহরে প্রবেশ না করে সরাসরি গাবতলী পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগ স্থাপন করা হবে।
এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর এ উদ্যোগ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।
পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি শহরের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। এই পথে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং থাকায় ট্রেন চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি জরুরি সেবা কার্যক্রমও এ কারণে ব্যাহত হচ্ছে। নগরায়নের বর্তমান বাস্তবতায় রেলপথটিকে বগুড়া শহরের অন্যতম বড় অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে রাণীরহাট জংশনকে কেন্দ্র করে রাণীরহাট-গাবতলী নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাহালু-বগুড়া-গাবতলী বিদ্যমান রেলপথ অপসারণ করে কাহালু-রাণীরহাট-গাবতলী রুটে আধুনিক ও যুগোপযোগী রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের ভেতর থেকে অপসারিত রেলপথের জায়গায় গাবতলী থেকে বগুড়া হয়ে কাহালু পর্যন্ত একটি আধুনিক চার লেন সড়ক নির্মাণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন সংস্কার করে সেখানে দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিমন্ত্রীর ডিও পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ বিষয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহর রেলক্রসিংভিত্তিক যানজট থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ হবে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে বগুড়ার ইতিহাসে অন্যতম বড় অবকাঠামোগত রূপান্তর, যা কয়েক দশকের পুরোনো যানজট সমস্যার টেকসই সমাধানের পাশাপাশি নগর উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।




