৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২২শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শরীয়তপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমিদাতার ছবি নামিয়ে ফেলার অভিযোগ

spot_img

রাব্বি ছৈয়াল 

শরীয়তপুর সংবাদদাতা :

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিঝারি ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী গুরু রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুর রহমান হাওলাদারের ছবি সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক রিপন বেপারীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে রিপন বেপারী বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে অফিস কক্ষ থেকে মরহুম আব্দুর রহমান হাওলাদারের ছবি নিজ হাতে নামিয়ে ফেলেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চপল্লী গুরু রাম উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ, গীতিকার ও সমাজসেবক অতুল প্রসাদ সেনের উদ্যোগে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে মরহুম আব্দুর রহমান হাওলাদার বিঝারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তিনি সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা ও নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ, খেলাধুলার উপযোগী মাঠ তৈরির জন্য পুকুর ভরাট এবং নিজ ক্রয়কৃত জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করেন। তাঁর অবদানে বিদ্যালয়টি অল্প সময়েই এলাকায় অন্যতম মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

২০০২ সালে তাঁর মৃত্যুর পর তৎকালীন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি রেজুলেশনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে তাঁর ছবি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সম্প্রতি বিএনপি নেতা রিপন বেপারী কোনো অনুমোদন বা কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে ছবিটি সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মরহুম আব্দুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মিজানুর রহমান রাসেল বলেন, “আমার বাবা বিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন এবং জমি দান করেছেন। বর্তমান প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি তাঁর প্রদত্ত জমির ওপর নির্মিত। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ২০০২ সালে বাবার মৃত্যুর পর তৎকালীন বিএনপি জোট সরকারের আমলে বিদ্যালয় কমিটি রেজুলেশন করে ছবিটি স্থাপন করে। এখন বিএনপি নেতা রিপন বেপারী দলের হাই কমান্ডের দোহাই দিয়ে ছবিটি নামিয়ে ফেলেছেন। এটি মরহুমের প্রতি অবমাননা।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র দাস বলেন, “গতকাল বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে রিপন বেপারী এসে বলেন—বিএনপির হাই কমান্ডের নির্দেশ আছে, আব্দুর রহমান হাওলাদারের ছবি এখানে থাকতে পারবে না। এরপর তিনি ছবিটি নামিয়ে ফেলেন। আজ শিক্ষার্থীরা ছবিটি পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছে।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহাম্মেদ রয়েল মাঝি বলেন, “বিদ্যালয়ের জমিদাতার ছবি সংরক্ষণ করা বা না করা ম্যানেজিং কমিটির বিষয়। যিনি ছবিটি নামিয়েছেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত কাজ—এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।”

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ