
পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অশ্লীল ভিডিও দেখানোর অভিযোগে সৃষ্টি করা “মব” এর শিকার হয়েছেন বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের দহিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলী (৬০)।
সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় বেশ কিছু ব্যাক্তিরা বিদ্যালয়ভবনের ভিতরে শিক্ষার্থীদের সামনেই শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারপিট করেন। দুপুর একটার দিকে শাজাহানপুর থানা পুলিশ ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ওই শিক্ষার্থী সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, বেশ কিছুদিন আগে প্রধান শিক্ষক আমাকে মোবাইল ফোনে ইউটিউবে পর্ণো ভিডিও দেখান এবং আমার শরীর স্পর্শ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোজাহার আলী সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য শিক্ষার্থীদের নাচের প্রশিক্ষণ চলছিলো। গত ১৮ মে অনুষ্ঠানের আগে একদিন শিক্ষার্থীদের অনুশীলনের সুবিধার্থে নিজের মোবাইলে নাচের ভিডিও চালু করে অফিস কক্ষে যাই। স্কুলের ওয়াইফাই মোবাইলে সংযুক্ত থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা অন্য কোনোভাবে অশ্লীল ভিডিও চালু হয়ে থাকতে পারে, যা আমার জানা ছিল না। রোববার (৭ জুন) বিদ্যালয় খোলার পর প্রধান শিক্ষক আমাকে বিষয়টি জানান। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি আমাকে জানান। পরদিন সোমবার(৮জুন) বিদ্যালয় চলাকালিন সময়ে বিদ্যালয় ভবনের ভিতরেই শিক্ষার্থীদের সামনে স্থানীয় কয়েকজন যুবক আমাকে মারধর করে এবং কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখে।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সংবাদ বুলেটিনকে জানান, ওই শিক্ষকের পরিবারের সঙ্গে কিছু প্রতিবেশীর দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এ ঘটনার পেছনে সেই বিরোধের প্রভাব থাকতে পারে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বক্তব্য নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




