২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

৫০টি মামলার আসামী জিএম অনিয়মে সেচের লাইসেন্স পাপ্তির ঘটনায় অভিযোগ: তদন্ত চলাবস্থায় বিদ‍্যুৎ সংযোগের অনুমতি দিলেন ইউএনও!

spot_img

৫০টি মামলার আসামী জিএম
অনিয়মে সেচের লাইসেন্স পাপ্তির ঘটনায় অভিযোগ: তদন্ত চলাবস্থায় বিদ‍্যুৎ সংযোগের অনুমতি দিলেন ইউএনও!

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শাজাহানপুরে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে অনিয়মে প্রাপ্ত সেচের লাইসেন্সে বিদ‍্যুৎ সংযোগের অনুমতি দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান। এমনকি সেখানে কোন পাইপ বোরিং পযর্ন্ত করা হয় নাই। আরও জানাগেছে, বিএডিসির ভূল তদন্তের খেসারত স্বরুপ প্রায় ৫০টি মামলার আসামি হয়েছেন পল্লী বিদ‍্যুৎ সমিতি-২ বগুড়া জেনারেল ম‍্যানেজার (জিএম) আমাজাদ হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার মানিকদিপা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলামের সেচ স্কীমের আওতার মধ্যে একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মুজাহিদুল ইসলামের অনিয়মে প্রাপ্ত নতুন সেচের লাইসেন্সে বিদ‍্যুৎ সংযোগ স্থগিত রাখার বিষয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও বিষয়টি তদন্তের আদেশ দেন বিএডিসি কর্মকর্তা বগুড়া বরাবর। তদন্ত অন্তে শহিদুল ইসলামের অভিযোগের সত‍্যতা পাওয়া যায়। যার তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি বিএডিসির উপ-সহকারী ইঞ্জিনিয়ার আসমাউল বিন হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করেন।

অভিযোগকারী ভূক্তভোগী কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত আমার স্কীমের আওতায় সকল কৃষকের জমিতে নিয়মিত সেচ দিয়ে আসছি। আমার সেচ স্কীমের আওতায় আরও চারটি বিদ‍্যুৎ দ্বারা চালিত সেচ পাম্প দীর্ঘদিন যাবত চলমান রয়েছে। তার মধ্যে আমার বিবাদী মুজাহিদুল ইসলামের বাবার নামেও একটি বিদ‍্যুৎ দ্বারা সেচ পাম্প চলমান রয়েছে। আমার স্কীমের মধ্যে মুজাহিদের একটি জমিতে আমি নিয়মিত সেচ দিয়ে আসছি। তারপরও আমার স্কীমের আওতায় সরকারি নিয়ম না মেনে তাদের এক পরিবারে আরও একটি নতুন লাইসেন্স দেয়া হয়। ঘটনাটি জানতে পেরে বিষয়টি সুরহার জন্য আমি ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। যার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ না হতেই তাকে বিদ‍্যুৎ সংযোগ দেয়া হলো। এতে করে আমাদের নিজস্ব জমিতে পানি সেচ দিতে একে অপরের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ইরির মৌসুমে চৈত্র মাসে পানি উত্তোলনে অনেক বেগ পোহাতে হয়। তারা আওয়ামী পরিবারের হওয়ার সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গোপনে নতুন লাইসেন্স করে নেন। এতে ভূয়া তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে তাকে নতুন লাইসেন্স প্রাপ্তিতে সহযোগিতা করেছে তৎকালীন বিএডিসির তদন্ত কর্মকর্তা। এমতাবস্থায় আমার স্কীমের মধ্যে পানি সেচ দেয়া নিয়ে উভয়ের মধ্যে যদি কখনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায় সেক্ষেত্রে তার দায়ভার ওইসব কর্মকর্তাদেরকেও বহন করতে হবে।

পল্লী বিদ‍্যুৎ সমিতি-২ বগুড়া এর জেনারেল ম‍্যানেজার আমজাদ হোসেন বলেন, অভিযোগ সাপেক্ষে মুজাহিদকে বিদ‍্যুৎ সংযোগ দেয়া বন্ধ রেখেছিলাম। পরে ইউএনও মহোদয়ের অনুমতি পেলে মুজাহিদকে বিদ‍্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আমি বিএডিসি কর্মকর্তাদের ভূল তদন্তে দেয়া লাইসেন্সে বিদ‍্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রায় ৫০টি মামলার আসামী হয়েছি। যার কারণে প্রতি সপ্তাহে আমাকে আদালতে হাজিরা দিতে হয়।

বিএডিসির তদন্ত কর্মকর্তা উপ সহকারী ইঞ্জিনিয়ার আসমাউল বিন হোসেন বলেন, কৃষক শহিদুল ইসলামের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে অভিযোগের সততা পাওয়া গেছে। সরকারি নিয়মে সঠিক দূরুত্ব মেনে মুজাহিদুল ইসলামের সেচ লাইসেন্স দেয়া হয় নাই। ততকালীন সময়ের তদন্ত ভূল ছিল যা পুনঃতদন্তে দেখা গেছে। এমতাবস্থায় ইউএনও মহোদয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আইনী ব‍্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পবিস-২ জিএম এর নামে মামলার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এখানে আমি মাত্র কয়েক মাস হলো যোগদান করেছি। উনাদের উপর মামলার বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে মুজাহিদকে বিদ‍্যুৎ সংযোগ দেয়ার অনুমতি অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, অভিযোগ পুনরায় তদন্তের জন্য বিএডিসি কর্মকর্তাকে আদেশ দেয়া আছে। আপাতত জমিতে পানি সেচ দিতে বিদ‍্যুৎ সংযোগের অনুমতির দেয়া হয়েছে। পুনরায় তদন্ত হলে আইনী ব‍্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ