২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শাজাহানপুরে হরিদাসের তা’ন্ডবে অতিষ্ঠ বড় হিন্দু পাড়া

spot_img

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের সাবরুল বড় হিন্দুপাড়া গ্রামে হরিদাস চন্দ্র দেবনাথ (৪২) নামের এক ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের অত্যাচারে গ্রামবাসী চরম বিপাকে পড়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, জুয়া এবং নারী ও শিশুদের ওপর যৌন হয়রানিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন হরিদাস, তার ছেলে হীরা চন্দ্র।

গত শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে দুর্গাপূজার মণ্ডপে মাদক সেবনে নিষেধ করার জেরে হরিদাস ও তার ভাড়াটে লোকজন অরবিন্দু সাহার পরিবারে উপর হামলা চালায়। এতে নারীসহ চারজন আহত হন।

এই ঘটনায় ওই রাত ১১টার দিকে হিন্দু পাড়ার লোকজন থানায় এসে হারিদাস চন্দ্র দেবনাথ, তাঁর ছেলে হীরা চন্দ্র দেবনাথ সহ মোট ৩জনের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন অরবিন্দু সাহা। পরদিন রোববার (২৪আগষ্ট) ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন শাজাহানপুর থানা পুলিশ।

হরিদাস চন্দ্রের ছেলে হীরা চন্দ্র দেবনাথের যৌন হয়রানির শিকার হয়ে মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক। হরিদাস চন্দ্রের পিতা সুরেশ চন্দ্র দেবনাথের কূপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলে হিন্দু পাড়ার অনেক নারী সংবাদ বুলেটিন প্রতিবেদকের কাছে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেছেন।

ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন হারিদাস চন্দ্র দেবনাথ ও তাঁর ছেলে হীরা চন্দ্র দেবনাথ। মাদক বিক্রির কথা অস্বীকার করলেও, মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মারামাটির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

সরেজমিনে রোববার (২৪ আগষ্ট)  দুপুরে বড় হিন্দুপাড়া গ্রামে গিয়ে অনেক হিন্দু পরিবারের সাথে কথা হয়। ভূক্তভোগী অরবিন্দু সাহা সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, পূজা মন্ডপে আমাদের পাড়ার বৌ, মেয়ে, বোনেরাই থাকে। তাই আমি গ্রামের ছেলেদের বলেছি পূজা মন্ডপ এবার মাদক মুক্ত রাখতে। এই কথা কোন ভাবে হরিদাস জানতে পেরে বহিরাগত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে এসে আমার এবং আমার পরিবারের উপরে হামলা করে। এতে আমি, আমার ভাই, আমার স্ত্রী এবং আমার ভাইয়ে র স্ত্রী আহত হয়।

তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় রাতেই গ্রামের বেশকিছু লোকজন নিয়ে থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু থানায় মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরী নেয়।

গ্রামের অষ্ট চন্দ্র সাহা(৬৪) সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, হরিদাস চন্দ্র দেবনাথ পাড়ার মাথায় মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা করেন। নাম মাত্র ওই মুদি দোকান মূলত মাদক বিক্রয় কেন্দ্র। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি সেখানে মাদকসেবীরা আড্ডা করে। বড় হিন্দুপাড়া গ্রামকে মাদক মুক্ত করা জরুরি।

ওই গ্রামের রমেন্দ্র চন্দ্র সাহা বলেন, হরিদাস চন্দ্র বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে বড় হিন্দুপাড়া গ্রাম জিম্বী করার চেষ্টা করছেন। হরিদাস চন্দ্রের ছেলে হীরা চন্দ্র আমার মেয়েকে প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানি করে আসছে। আমার মেয়ে সাবরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। হীরার ভয়ে আমার মেয়ে এখন আর স্কুলে যেতে পারেনা। এই গ্রামের বৌ এবং মেয়েরা হরিদাস এবং হীরাদের যৌন হয়রানির ভয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন না।

একাধিক নারী সংবাদ বুলেটিনকে জানান , হরিদাসের দোকানটি মূলত মাদক বিক্রির কেন্দ্র। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা চলে। প্রতিদিন রাতে এলাকায় বসে জুয়ার আসর। এতে পুরো গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে আশেকপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং বড় হিন্দুপাড়া গ্রামের পাশের বাসিন্দা আব্দুল হালিম সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, হরিদাস, তাঁর ছেলে হীরা এবং তাঁদের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বড় হিন্দুপাড়া গ্রামে মাদক জুয়া সহ বিভিন্ন ধরণের অপরাধ করে আসছে। যৌন হয়রানির কারণে মেয়েরা ঠিকমত চলাচল করতে পারছেনা। ইতিমধ্যে অনেকে বিদ্যালয়ে যেতেও পারছে না। এ ঘটনায় হরিদাসের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রশাসন চাইলে সব ধরণের সহযোগীতা করতে প্রস্তুত আছি।

এ বিষয়ে হরিদাস চন্দ্র দেবনাথ মুঠোফোনে বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আমি মাদক বিক্রি করিনা তবে মাদক(গাঁজা) সেবন করি। যখন যেখান থেকে পাই সেখান থেকেই কিনি। আমি কবিরাজি করি তাই ওষুধ বানাতে গাঁজার দরকার হয়। আমার ছেলে কোন মেয়েকে যৌন হয়রানি করে তা আমার জানা নাই। মারামারির পর থেকে বাহিরে আছি। আমার ছেলে হীরাও বাড়িতে নাই। কবে বাড়িতে ফিরবো তা বলতে পারছি না।

শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, পূজা সংক্রান্ত বিষয়ে মাদক সেবন না করতে পারে এ বিষয়ে অরবিন্দু সাহা একজনের সাথে কথা বলেছিলেন। সেখানে তিনি কারো নাম উল্লেখ করেন নি। এই কথা হরিদাস চন্দ্র জানার পর লোকজন নিয়ে অরবিন্দুর সাথে বাকবিতন্ডে ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্ৰহন করা হবে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ