
সবকিছু ঠিক থাকলে আর মাত্র চার দিন পর, আগামী ১২ জানুয়ারি (সোমবার) দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর পূর্বপুরুষের ভিটা বগুড়ায় ফিরছেন। তাঁর আগমনকে ঘিরে বগুড়াজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উদ্দীপনা।
দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় বগুড়াবাসীর অনুভূতি আরও গভীর। কারণ, বগুড়াই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি। সেই ভূমিতে তাঁর উত্তরসূরি তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে মানুষের চোখে আনন্দ আর হৃদয়ে আশার আলো জ্বলছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনা, থেমে থাকা উন্নয়ন ও উপেক্ষার অবসান ঘটবে—এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর তারেক রহমানের এই বগুড়া সফর ঢাকার বাইরে তাঁর প্রথম সফর হতে যাচ্ছে। সফরকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে তাঁর জন্য একটি নিজস্ব অফিস প্রস্তুত করা হচ্ছে। জানা গেছে, বগুড়ার একটি স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে অত্যাধুনিক নকশায় অফিসটি সাজানো হচ্ছে।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মোশারফ হোসেন জানান, তারেক রহমান ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টায় শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত গণদোয়ায় অংশ নেবেন।
গণদোয়া শেষে তিনি শহরের সাতমাথা, তিনমাথা ও মাটিডালী হয়ে মহাস্থানে হজরত শাহ সুলতান বলখি মাহি সাওয়ার (রহ.)-এর মাজারে জিয়ারত করবেন। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি রংপুরের উদ্দেশে রওনা দেবেন। তিনি আরও জানান, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর বগুড়ায় এসেছিলেন।
দীর্ঘ ১৯ বছর ১৮ দিন পর তাঁর আগমনকে ঘিরে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাঁকে একনজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বিদেশে থেকেও তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা প্রণয়ন করে যাচ্ছেন। জনগণ যদি বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তবে বগুড়াসহ দেশের মানুষের কল্যাণে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা হবে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, তারেক রহমানের বগুড়ায় আগমনের খবরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত বগুড়া তাঁর নেতৃত্বে নতুন করে এগিয়ে যাবে—এটাই আমাদের বিশ্বাস।




