
প্রতীক্ষিত সংস্কার কাজ শেষে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী ফতেহ আলী ব্রিজ আবারও ফিরে পাচ্ছে তার নান্দনিক রূপ। করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত এ ব্রিজটি পূর্ব বগুড়ার মানুষের শহরে প্রবেশের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। তবে নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই নতুন করে দখলদারদের কবলে পড়ে ব্রিজটি এখন যেন হকার ও অবৈধ স্ট্যান্ডের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
ব্রিজের উভয় পাশে নির্মিত অ্যাপ্রোচ সড়কের বড় অংশ ইতোমধ্যে অবৈধ দখলে চলে গেছে। সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকানপাট। ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও কয়েকদিনের মধ্যেই দখলদাররা আবারও ফিরে আসে। ফলে উচ্ছেদ অভিযান কার্যত লোকদেখানো উদ্যোগেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রিজের পূর্ব পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড। অ্যাপ্রোচ সড়কের বড় অংশজুড়ে শত শত ব্যাটারিচালিত ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে পথচারীদের চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি যানজটও নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সারিয়াকান্দি ও চন্দনবাইশা সড়কে চলাচলকারী প্রায় আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ অটোরিকশা প্রতিদিন এই স্থানকে স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করছে। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক দখল করে যানবাহন রাখার জন্য নিয়মিত চাঁদাও আদায় করা হয়।
এদিকে অ্যাপ্রোচ সড়ক দখলের পর এবার মূল ব্রিজও চলে যাচ্ছে অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। ব্রিজের দুই পাশের ওয়াকওয়ে দখল করে বসেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান। ফল, মাছ, সবজি, জুতা, কাপড়, প্রসাধনী থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে সেখানে। হাঁটার জন্য নির্ধারিত ওয়াকওয়ের অধিকাংশ অংশই এখন দোকানিদের দখলে।
ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে যানবাহন চলাচলের মূল সড়ক ব্যবহার করছেন। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচল চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো দখলমুক্ত রাখতে না পারলে উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাবে না। তারা ফতেহ আলী ব্রিজ ও এর সংযোগ সড়ক দ্রুত দখলমুক্ত করে নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।




