২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

করতোয়ার পাড়ে বর্জ্যের স্তূপ, কালো হচ্ছে নদীর পানি

spot_img

বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া মহিষবাথান এলাকায় করতোয়া নদীর পাড়ে ফেলা হচ্ছে সিটি করপোরেশনের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য। খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি এসকেভেটর দিয়ে সেগুলো নদীর পাড়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে কিছু বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ছে। বর্জ্য ও পানির মিশ্রণে নদীর পানি কালচে হয়ে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ফলে নদীর পাড়ে দাঁড়ানোই দায় হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, একসময় করতোয়া নদীর পানি রান্নাসহ গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতেন তারা। এখন দূষণের কারণে সেই নদীর পানি ব্যবহার তো দূরের কথা, দুর্গন্ধের কারণে নদীর কাছেও যাওয়া যায় না।

সম্প্রতি সরেজমিন বাঘোপাড়া মহিষবাথান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বগুড়া সিটি করপোরেশনের বর্জ্যবাহী ট্রাকে করে আবর্জনা এনে নদীর পাড়ের খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে। পরে এসকেভেটর ও ডোজারের সাহায্যে সেগুলো নদীর পাড়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ সময় কিছু বর্জ্য নদীতে গিয়ে পড়তে দেখা যায়।

সরেজমিন সিটি করপোরেশনের কর্মচারী খোরশেদ আলমকে এসকেভেটর দিয়ে বর্জ্য নদীর পাড়ের দিকে ঠেলে দিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, তারা সরাসরি নদীতে বর্জ্য ফেলেন না। তবে এসকেভেটর দিয়ে বর্জ্য সরানোর সময় কিছু অংশ নদীতে পড়ে যেতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রতিদিন প্রায় ২০০ টন বর্জ্য ওই এলাকায় ফেলা হয়। ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২৪টি ট্রাকে করে এসব বর্জ্য সেখানে নেওয়া হয়।

মহিষবাথান গ্রামের প্রায় ৬০ বছর বয়সী আব্দুল বারী বলেন, ‘একসময় এই নদীর পানি পান করাসহ গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতাম। তখন এলাকায় এত টিউবওয়েলও ছিল না। এখন নদীর পানি ব্যবহার তো দূরের কথা, দুর্গন্ধের কারণে নদীর কাছেও যাওয়া যায় না।’

নদী বা জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা আইনত নিষিদ্ধ। ২০২১ সালের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় নির্ধারিত পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা রয়েছে। একই বিধিমালায় কঠিন বর্জ্য দিয়ে ভূমি ভরাটের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের কথাও বলা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর নদী রক্ষা কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নদীদূষণের একটি তালিকা তৈরি করে। ওই তালিকায় তৎকালীন বগুড়া পৌরসভাকে করতোয়া নদী দূষণকারী হিসেবে উল্লেখ করে নোটিস দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার নোটিস দেওয়ার পরও নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়নি।

পরিবেশ অধিদপ্তর বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহাথির বিন মোহাম্মদ বলেন, বাঘোপাড়া এলাকার ভাগাড়টি তারা আগেও পরিদর্শন করেছেন। আবর্জনা পানির সঙ্গে মিশলে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এখানেও একই ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি বগুড়া সিটি করপোরেশনের সভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খোলা জায়গায় বর্জ্য না রেখে নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা করার জন্য সিটি করপোরেশনকে বলা হয়েছে।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা ভাগাড় নেই। তারা জায়গা খুঁজছেন। বর্তমানে বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএসের জায়গায় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। সংস্থাটি যেখানে ফেলতে বলে, সেখানেই বর্জ্য ফেলা হয়। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ