২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বর্তমান বাংলাদেশে ১৯৫২ সালের নির্যাতিত চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছে একদল সন্ত্রাসী

spot_img

✍️লেখক মো: জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান
শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়
কায়রো, মিশর

বর্তমান বাংলাদেশের সকল ইউনিভার্সিটি গুলো সংঘর্ষের ভূমিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে যে কোটা সংস্করণের আন্দোলন চলতেছে এখন সেই ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে নিবারণ করতে ছাত্রলীগ নামের সন্ত্রাসীদের’কে মাঠে লেলিয়ে দিয়েছে সরকার। ১৯৫২ সালে পাকিস্তানিরা ভাষা আন্দোলনের সময় বাংলার ছাত্রদেরকে যেভাবে নির্যাতন,হামলা করেছে, ঠিক একই চিত্র ফুটে তুলেছে ২০২৪ সালে এসে এই ছাত্রলীগ নামের সন্ত্রাসবাদীরা । আজ নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ছাত্ররা আহত নিহত হচ্ছে সেই সন্ত্রাসবাদীদের হাতে। আজ কয়েকটা নিউজ দেখলাম,  শিরোনাম ছিল এমনি, কোটাবিরোধীদের হটিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলী, এখানে আমার একটা প্রশ্ন হলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণের কারণটা কি? এটা কি কোন যুদ্ধক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণের অবাধ প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল কেন। কোটা বিরোধী আন্দোলন করতেছে এটা তাদের ন্যায্য অধিকার। আপনি তাদের অধিকার তাদেরকে দিয়ে সমাধান করেন। আপনি তাদের অধিকার না দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী হামলা লাগিয় দিছেন কেন? এটা কোন যুক্তিতে । আজ প্রথম আলো নিউজে দেখলাম ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা। এখানে বেশ কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগ সন্ত্রাসবাদীরা হামলা করেছে এমন অভিযোগ পেশ করেছে। কালের কন্ঠের নিউজে এসেছে, মধ্যরাতে উত্তাল চুয়েট। এ বি এন নিউজে প্রকাশ করেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্করণ আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ হামলা, হামলাকারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসবাদীরা।
দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশ করেছে, চবিতে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারী দুজন শিক্ষার্থীকে আহত করছে ছাত্রলীগ। আরো কয়েকটা নিউজে চোখে পড়লো, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্করণ আন্দোলনকারী ১০ জন ছাত্রকে আহত করছে ছাত্রলীগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আহত করা হয়েছে দুইজন শিক্ষার্থী আহতকারী ছাত্রলী। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই যে দুটি শিক্ষার্থীর দল এদের মধ্যে পার্থক্যটা কি ছিল ? এখানে যারা ছাত্রলীগ নামধারী বিরোধীতা করতেছে তাদের কী চাকুরির প্রয়োজন নাই তারাও তো একই সমস্যার সম্মুখীন হবে। কেন তারা এই স্বার্থটা বুঝতে পারছে না? কেন তারা তাদের কোটা সংস্করণ ভাইদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে । এখানে কারণ’,টা হলো তারা প্রকৃতপক্ষে ছাত্র না তারা হলো ছাত্রলীগ। তারা একটা দলের গোলাম মূর্খ নেতারা যা আদেশ দেয় তা মানতে তারা বাধ্যনীয়। তাদেরকে এমন নিষ্ঠুর ভাবে গড়ে তুলেছে তারা তাদের ভাইদের বুকে গুলি চালাতে একটু ও দ্বিধাবোধ করে না। তাদের মধ্যে কোন মানবিকতা মনুষত্ব্য ও বিবেক বেঁচে নেই। তারা কেউ তো একবারও জিজ্ঞেস করেনি তাদের নেতাদেরকে কেন আপনারা এমন করতেছেন তারা তো অন্যায় কিছু করতেছে না। এটা দ্বারা সুস্পষ্ট বুঝা যায় ছাত্রলীগ ছাত্রদের কল্যাণের কোনো সংগঠন নয়। ছাত্রলীগরা কেবল দুর্নীতিবাজ সরকারের পা চাটা গোলাম। এভাবে যদি বিভেদ সৃষ্টি করে সরকার তাহলে রাষ্ট্র কিভাবে অগ্রসর হবে। পৃথিবীর কোন দেশ বিভক্তি সৃষ্টি করে সামনে অগ্রসর হতে পারে না। এটা কেমন রাজনীতি। কিসের ভিত্তিতে সরকারি দলের সেক্রেটারি কোটা বিরোধী আন্দোলনকে সংবিধান বিরোধী বলেছেন। “সংবিধানে বলা হয়েছে, সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন৷ মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন”। সংবিধান অনুযায়ী কোটা রাখাটাই সংবিধান বিরোধী। যদি কোটা রাখা হয় তাহলে সকল নাগরিকের সুযোগের সমতা হয় না। এখানে ১% চেয়ে কম মানুষ মুক্তিযোদ্ধা কোটার পক্ষে বাকি সবগুলো বিপক্ষে। এখানে ১% জন্য সরকার বিভেদ সৃষ্টি করে দিচ্ছে, সন্ত্রাসদের মাঠে নামিয়ে দিচ্ছে কেন? মুক্তিযোদ্ধা নাতি-নাতনিদের ব্যাপারে কোটা থাকার কোন লজিক বা যুক্তি আছে কী ? আপনারা যাদেরকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন তারা ব্যতীত আর কোন মুক্তিযোদ্ধা নাই। এই দেশ স্বাধীন করার জন্য আর কারো কি অবদান ছিল না। যারা মারা গেল তারা কী মুক্তিযোদ্ধা না তাদের কি কোন অবদান নেই। তাদের অবদান স্বীকার করতে কি সমস্যা আপনাদের? আপনারা কিভাবে বলতে পারেন যারা আপনাদের তালিকাভুক্ত আছে তারা ব্যতীত আর কেউ মুক্তিযোদ্ধা নই। এদেশে রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া কি আর কোন মানুষ নেই? কিভাবে একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন, মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা চাকুরি পাবে নাকী রাজাকারের নাতি-নাতনিরা চাকুরি পাবে এখানে কি মধ্যখানে আর কেউ নাই এ দেশে। প্রধানমন্ত্রীর এই কথা দ্বারা বুঝা গেল , মুক্তিযোদ্ধা ব্যতীত বাকি সবাই রাজাকার। এই কথা তো সকল ছাত্রের হৃদয়ের গহীনে লেগেছে এজন্য তো তারা এমনভাবে স্লোগান দিয়েছে, ” তুমি কে?  আমি কে? রাজাকার রাজাকার “। এই স্লোগান তো শুনতে এবং দিতে কারো ভালো লাগে নাই। আপনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি পদকপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হয়ে সরল একটা বক্তৃতা দিতে এমন কথা বলছেন মুক্তিযোদ্ধা ব্যতীত বাকি সব রাজাকার। আপনি এটা দ্বারা ছাত্রদেরকে অপমান করলেন। প্রধানমন্ত্রীর মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ  ব্যক্তি থেকে অপমানিত হয়ে ছাত্ররা এমন স্লোগান দিতে বাধ্য হয়েছে “চাইলাম অধিকার,হয়েছি রাজাকার, কে বলেছে?  কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার”। এতে ছাত্রদের প্রতি কোনরকম দোষ দেওয়া যাবে না। এ কথার মধ্যে যে চরম আর্তনাথ লুকিয়ে আছেনএটা কি একটু খেয়াল করে দেখছেন। তারা অধিকার চেয়েছে আপনি তাদের কে রাজাকার বললেন এটার কি কোন যুক্তিক আছে আদৌ।  তাদের অধিকার দিয়ে তাদের কে সমাধান করুন। এটা একটা জাতীয় সমস্যা এখানে বিদ্বেষ সৃষ্টি করে  সমাধান করা যাবে না।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ