২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আশ্রয়নের ঘরে ঝুলছে তালা, থাকেনা বেশিরভাগ সুবিধাভোগীরা

spot_img

আশ্রয়নের ঘরে ঝুলছে তালা, থাকেনা বেশিরভাগ সুবিধাভোগীরা

নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ

নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মার চরে রসুলপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনেক ঘরেই থাকেন না বাসিন্দারা। ঘরগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন।

জানা গেছে, ২০২২ সালের মে মাসে লালপুর উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের পদ্মার চরে রসুলপুর মৌজায় “আশ্রয়ণ প্রকল্প-২”এর ২৪০ জন গৃহহীন পরিবারের নিকট ঘর হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায় এখন বর্তমান প্রকল্পে ২৪০টি ঘরের মধ্যে মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি ঘরে লোকজন বসবাস করেন। প্রায় ১৮০টি ঘর মানুষশূন্য।

প্রকল্পের একটি ঘরের সামনে উঠোনে রান্না করছে গৃহবধূ সাবিনা খাতুন, আলাপচারিতায় সাবিনা বলেন, আমরা খুব কষ্টে আছি আমাদের কেউ খোঁজ নেয় না, ঘরগুলো খালি থাকায় রাতের বেলায় ভয় লাগে বাহিরে বের হতে পারিনা, কোনই নিরাপত্তা নাই, সব ঘরে মানুষ থাকলে ভয় থাকত না।

সচেতন মহলের দাবি ২৪০টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রকৃত ভূমি ও গৃহহীনদের ঘর না দেওয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনেক ঘর খালি রয়েছে। যেসব ঘরে সুবিধাভোগীরা থাকেন না, তাঁদের নামের ঘরগুলো বাতিল করে নতুন করে প্রকৃত ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তারা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান যাঁদের ঘরবাড়ি আছে, তাঁরাও ঘর পেয়েছেন। তাই এখানে তাঁরা থাকেন না। কখনো ঘরগুলো দেখতেও আসেন না তাঁরা। কয়েকজন ঘরের মধ্যে ও বারান্দায় খড়কুটো রেখেছেন, তাঁরা কোনো দিন ওই সব ঘরে থাকেননি, মাঝেমধ্যে কেউ কেউ ঘরের দরজা খুলে কিছু সময় অবস্থান করে আবার চলে যায়।

গত মঙ্গলবার সকালে ওই আশ্রয় প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘরেই তালা ঝুলছে, তালাগুলোও মরিচা পড়ে গেছে। ঝোপঝাড়ে ঘিরে ধরেছে ফাঁকা ঘরগুলো। বারান্দা ও আশপাশে জমে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। কয়েকটি ঘরের বারান্দায় গবাদিপশু রাখা রয়েছে, একটি ব্যারাকে পাঁচটি ঘর, বেশ কয়টি ব্যারাকে মাত্র একটি ঘরে মানুষের দেখা মিলেছে।

সেখানকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ বৃদ্ধ আজদেল আলী বলেন আমাদের রাস্তাঘাটের খুবই প্রয়োজন, পানির সংকট টিউবওয়েলে পানি ওঠেনা, এবং আশ্রয়ন সংলগ্ন পুকরটি সংস্কার করে আমাদের ব্যাবহারের উপযোগী করে দেওয়া হোক।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আখতার বলেন, যাদের আসলেই দরকার নেই বরাদ্দ নিয়েছে সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে আমাদের কাছে যে আবেদনগুলো আছে সে অনুযায়ী ব্যাবস্থা নিব।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ