৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ বন্ধের দাবি

spot_img

২৩ অক্টোবর ২০২৪ ইং রাজশাহীতে পরিবর্তন, কোস্টাল লাইভলিহুড এন্ড এনভায়রনমেন্টাল একশন নেটওয়ার্ক (CLEAN) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি এন্ড ডেভেলপমেন্ট (BWGED) যৌথভাবে একটি প্রচারাভিযানের আয়োজন করে, যেখানে ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প থেকে বিনিয়োগ বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের দাবি জানানো হয়। এই ইভেন্টটি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের আসন্ন বার্ষিক সভার প্রাক্কালে একটি বৈশ্বিক প্রচারণার অংশ ছিল, যা টেকসই শক্তি রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট দিল সেতারা চুনি, ভূমি অধিকার আন্দোলনের নেতা আফজাল হোসেন, সাংবাদিক ইউসুফ আদনান ও পরিবর্তন পরিচালক রাশেদ রিপন।

বক্তারা বলেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে অব্যাহত সমর্থনের সমালোচনা করেন, বিশেষ করে বাংলাদেশের রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট এবং সিদ্ধিরগঞ্জ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো প্রকল্পগুলিতে এর সম্পৃক্ততা নিয়ে। তারা বলেন, এই বিনিয়োগগুলো প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি সীমিত করার উদ্দেশ্যে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর জোর দেয়। “ওয়ার্ল্ড ব্যাংক জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে যে অর্থায়ন করছে তা কেবল জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যর্থ নয়, বরং বাংলাদেশের মতো দেশের টেকসই উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে।”

রাজশাহীর এই প্রচারাভিযানে জলবায়ু কর্মী, সুশীল সমাজের সদস্য এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তারা নবায়নযোগ্য শক্তির যথাযথ বিনিয়োগের অভাবে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সারা ইভেন্ট জুড়ে সবুজ জ্বালানি ভবিষ্যতের আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন ব্যানার প্রদর্শিত হয়। বক্তারা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শক্তি এবং পরিবেশগত সংকট মোকাবিলার জন্য সৌর এবং বায়ু শক্তির সমাধানগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ শুধু কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করবে না, বরং স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের শক্তি নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হবে। তারা সতর্ক করেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সংকটের মুখে দেশের পরিবেশ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।

প্রচারাভিযানের শেষ দিকে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রতি স্পষ্ট দাবি জানানো হয়—জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প থেকে অবিলম্বে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে সৌর, বায়ু এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির মতো টেকসই সমাধানে বিনিয়োগ করতে হবে। আয়োজকরা আশা করেন, এই প্রচারাভিযান বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেবে এবং তারা তাদের নীতিমালা পরিবর্তন করে একটি সবুজ ও টেকসই ভবিষ্যতের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ