২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গোবিপ্রবির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এখন ছাত্রদল নেতা

spot_img

গোবিপ্রবির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এখন ছাত্রদল নেতা

গোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ-
৫ই আগস্ট স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পর গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ( গোবিপ্রবি) নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রূপ বদল করে অনেকেই ছাত্রদলের নেতা হয়েছেন! ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের ব্যানার ধরে  স্লোগান দিলেও এখন তারা নেতৃত্ব দিয়ে নিয়মিত দিচ্ছেন জাতবাদী ছাত্রদলের স্লোগান। কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্য সদস্য ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছেন নিজের জীবন বৃত্তান্ত।

জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকলেও স্বৈরাচার হাসিনার পতনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী নিজেকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে শোডাউন দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। এছাড়াও কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্য জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রাখছেন নিয়মিত যোগাযোগ। তবে অভিযোগ রয়েছে যে ছাত্রদলের এসকল নতুন নেতৃত্বের অধিকাংশই ইতিপূর্বে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে থাকাকালীন বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে তাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনো দেখা মিলছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) ছাত্রদলের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সদস্য ফরম বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে নির্বাচনের ঘোষণা করা হয়েছে  কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে। কমিটিতে পদ পাওয়ার জন্য ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণকারীরা করছেন বিভিন্ন নেতার কাছে দৌড়ঝাঁপ।

সাম্প্রতিক একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায় ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী মাহমুদুল হাসান রাকিবকে ছাত্রলীগের ব্যানারে প্রথম সারিতে দাড়িয়ে মিছিল করতে। এছাড়াও তাকে ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীর গ্রুপের শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে চিনেন সবাই। সে সময়ে তাকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে নিয়মিত অংশগ্রহন করতে দেখা যায়।

নিজেকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশকারী শফিকুল ইসলামকে ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিলে দেখা যায়। সর্বশেষ টুঙ্গিপাড়ায় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম ও সাধারণ সম্পাদক ইনান আসলে তাদের সাথে দেখা করতে যান কমিটির জন্য।

ছাত্রদলের আরেক সক্রিয় কর্মী শাহজাহানকে ২০২৩ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিতে দেখা যায় এবং পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।

একই ভাবে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী ও বর্তমান  ছাত্রদল নেতা জহিরুল ইসলাম জহিরকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে দেখা যায়।

এছাড়াও ছাত্রলীগের মিছিল মিটিংয়ে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণকারী মেহেদী হাসান সাকিব, সাব্বির হোসেন, হেদায়েতুল সানি সহ বেশ কয়েকজন রূপ বদল করে হয়েছেন এখন ছাত্রদলের কর্মী।
ছাত্রলীগ নেতা চন্দ্রনাথ মজুমদারের ডান হাত খেতো মোঃ জুয়েল হোসেন ছাত্রদল নেতাদের সাথে নিয়মিত বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এমনকি দেখা করছেন ছাত্রদল ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে।

ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার বিষয় অস্বীকার করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ” আমি ছাত্রদলের সদস্য হওয়ার ফরম পূরণ করেছি। আমি ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মিথ্যা লেখালেখি হচ্ছে।”

পূর্বে ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে  ছাত্রদলের সভাপতি পদ প্রত্যাশী মাহমুদুল হাসান রাকিব বলেন,”আমি যখন প্রথম বর্ষে ভর্তি হই তখন আমাদের ময়মনসিং বিভাগীয় ছাত্র ছাত্র সংসদ এই ক্যাম্পাসে ভালো একটা অবস্থান ছিল। সেসময় আমি ময়মনসিংহ ছাত্র সংসদের সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত ছিলাম। তখন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কিছু বড় ভাই ছিল যারা অত্যান্ত প্রভাবশালী এবং ছাত্রলীগের নেতা ছিল। বিভাগীয় সংগঠনে আমার একটি বড় সার্কেল ছিল। প্রথম বর্ষের হওয়ায় বড় ভাইরা মাদকবিরোধী মিছিল বলে আমাদের নিয়ে যায়। মিছিলে এক পর্যায়ে তারা আমাকে সামনে দিয়ে দেয়। আর আমি যদি  অরিজিনাল ভাবে ছাত্রলীগ করতাম তাহলে জীবনের রিস্ক নিয়ে গোপালগঞ্জের মতো যায়গায় আওয়ামী লীগের আমলে ছাত্রদল করতাম? আমিতো নতুন ছাত্রদল করি না। আমি আওয়ামী লীগের আমল থেকে ছাত্রদলের সাথে যুক্ত আছি।”

ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের ছাত্রদলের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ ও কমিটিতে পদ পাওয়ার বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যবেক্ষক মশিউর রহমান সরকার বলেন,”আমরা সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই দায়িত্ব দিব। সবকিছু এত সহজেই কেউ পাবে না। এত বছর আমরা কষ্ট করেছি আর কেউ দুইদিন রাজনীতি করে লোকজন দেখিয়ে পদ পাবে তা হবে না। ইতিপূর্বে কেউ কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল কিনা সবকিছু যাচাই করেই দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই ক্ষেত্রে আপনারাও সহযোগিতা করবেন আশাকরি। “

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ