৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযানের আগে পুলিশের দেহ তল্লাশি, এরপর যা জানা গেল!

spot_img

মেহেরপুরের গাংনীতে এক মাদক কারবারির বাড়িতে অভিযান চালানোর আগে পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি গাংনী উপজেলার কাজীপুর ইউনিয়নে পরিচালিত একটি মাদকবিরোধী যৌথ অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি গত ৪ আগস্ট বিকেলের। ভিডিওতে দেখা যায়, মাদক কারবারির বাড়িতে প্রবেশের আগে উপস্থিত একজন গণমাধ্যমকর্মীকে দিয়ে অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে। দেহ তল্লাশি শেষে পুলিশ সদস্যরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করে অভিযান পরিচালনা করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

তীব্র বিতর্কের মুখে ঘটনা প্রসঙ্গে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই অভিযানের আগে পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশি করা হয়। যাতে পরবর্তীতে কেউ অভিযোগ করতে না পারে যে পুলিশ নিজেরা কোনো আলামত নিয়ে গিয়ে উদ্ধার দেখিয়েছে বা কাউকে ফাঁসিয়েছে।

তিনি বলেন, পুলিশ রেজুলেশনস অব বেঙ্গল (পিআরবি)-এর ২৮০ বিধির ‘ডি’ উপবিধি অনুযায়ী, তল্লাশি শুরুর আগে তল্লাশি পরিচালনাকারী পুলিশ কর্মকর্তা, উপস্থিত সাক্ষী এবং সংবাদদাতার দেহ তল্লাশি করার বিধান রয়েছে। এই তল্লাশি সাক্ষীদের পাশাপাশি যার বাড়ি বা স্থানে তল্লাশি চালানো হবে, তার বা তার প্রতিনিধির উপস্থিতিতেই সম্পন্ন করতে হয়। গাংনীর অভিযানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ওই বিধি অনুসরণেরই অংশ।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, নিয়ম মেনেই মাদকবিরোধী অভিযানের আগে পুলিশ সদস্যদের দেহ তল্লাশি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, অভিযান নিয়ে যেন কোনো ধরনের প্রশ্ন বা সন্দেহের অবকাশ না থাকে। মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ত ৪ আগস্ট বিকেলে গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী কাজীপুর ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে ঘণ্টাব্যাপী যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে প্রায় ৫ কেজি গাঁজা, ২১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাংনী উপজেলার কাজীপুর বর্ডারপাড়ার বজলুর রহমানের ছেলে শিপন হোসেন (৪৫), ফজল আলীর স্ত্রী তানজিলা খাতুন (৪৭), ইয়াদ আলীর ছেলে ফজল আলী (৬৫), দুলাল হোসেনের ছেলে রানা হোসেন (২২) এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার নাটনাপাড়া গ্রামের তাজ উদ্দিনের ছেলে জাহিদ হোসেন (২৮), হাবিবুল ইসলাম (৩৬) ও শাহিন আলম (৫০)।

এ ঘটনায় গাংনী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ