
কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার পরমতলা ইদ্রিসিয়া সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ শে সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২ টার পর এক শ্রেণীকক্ষে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় শ্রেণিকক্ষ ও মাদ্রাসার বারান্দায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
জানা গেছে মাদ্রাসার শারীরিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক মু. আব্দুল হান্নান শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়েছে এবং আপত্তিকর ইঙ্গিত প্রধান করেছে। এছাড়াও শিক্ষক মু. আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে প্রাইভেট বাণিজ্য, ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুগামী এবং পরীক্ষায় চরম বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করলে তাদের হুমকি, ঘুষ প্রধান সহ নানান ভাবে থামানোর চেষ্টা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও তার সহযোগীরা। এর প্রতিবাদে আজ এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে অংশ নিয়েছে মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে আলিম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা।
দশম শ্রেণির ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন প্রাইভেট শেষে স্যার আমাকে খারাপ ভাবে স্পর্শ করার চেষ্টা করে। তখন আমার এক বান্ধবী দেখে আমাকে সেখান থেকে নিয়ে আসে।
সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন স্যারের চাপে পরে আমরা প্রাইভেট পড়তে যাই। একদিন স্যার আমার হাত ধরেন। আমি দূরে চলে যাই। তারপর স্যার আমার হাত কাছে এনে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন। এই শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন স্যার পরীক্ষার হলে তার পাশে এসে বসেন, তার হাত ধরে লিখে দেন তারপর আস্তে আস্তে তার বুকে হাত দেন।
আলিম ক্লাসের আকাশ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে স্যার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাধ্যমে আমাদের নানান হুমকি দেন এবং ওই ছাত্রলীগ নেতা মাদ্রাসার অফিসে আমাদের গায়ে হাত তুলতে আসেন তখন আমাদের কয়েকজন শিক্ষক বাঁধা দিলে আমাদের গায়ে হাত তুলতে পারেননি।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ফাজিল ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি সরকার, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম নাঈম এবং কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থী।
সেসময় বক্তারা বলেন অনেকে ভাবে আমরা শিক্ষার্থীরা থেকে গেছি, আমরা থেকে যাওয়ার নয়। আমাদের দাবি পূরণ হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। সে সময়ে ১দাফা দাবি অর্থাৎ হান্নান স্যারের পদত্যাগ চাইতে শুনা গেছে। এছাড়াও বক্তারা সকল শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসার সঠিক ড্রেস নিশ্চিত করে সকল ক্লাস করতে আহ্বান জানিয়েছেন।




