
কেন তাঁরা একই ব্যক্তিকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বড় বোন সরোজ বলেন, তাঁরা ছোটবেলা থেকেই সব সময় একসঙ্গে বড় হয়েছেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের আলাদা আলাদা বিয়ের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরে তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
সরোজ বলেন, ‘শৈশব থেকে আমরা একসঙ্গে থেকেছি। আলাদা হয়ে থাকার কথা কখনোই কল্পনা করতে পারিনি। যখন বুঝলাম, বিয়ের পর আমাদের আলাদা হয়ে যেতে হবে, তখন আমরা আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলাম। পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, মৃত্যুর পথ বেছে নেওয়ার বদলে একসঙ্গেই থাকব এবং একজনকেই বিয়ে করব। আমরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তিন বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, ছয় মাস ধরে বিকাশ তাদের ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। পাশাপাশি তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য যে ভিডিও তৈরি করতেন, সেগুলোতে বিকাশ প্রায়ই স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করতেন।
বিকাশ বলেন, তিন বোনের পারস্পরিক গভীর বন্ধনের বিষয়টি তিনি জানতেন এবং তাঁদের প্রস্তাবে সম্মতি দেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম, তিন বোন একে অপরের সঙ্গে কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তারা বারবার আমাকে বলেছিল, বিয়ের পর আলাদা থাকতে চায় না। আমি তাদের অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়েছি এবং তাদের একসঙ্গে রাখার জন্যই বিয়েতে রাজি হয়েছি। আমরা পারস্পরিক সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আশা করি মানুষ আমাদের পছন্দকে সম্মান করবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা বাড়তে থাকলে তিন বোন আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে বক্তব্য দেন। হিন্দু পুরাণের একটি চরিত্রের উদাহরণ টেনে তাঁরা বলেন, ‘প্রাচীনকালে রাজা দশরথের তিনজন রানি ছিলেন। তখন কি সেটাকে অপমান বলা হয়েছিল?’ তাঁরা আরও বলেন, তাঁরা কোনো ভুল করেননি। কারণ, তাঁরা চারজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই বিয়ে নিয়ে আইনি প্রশ্নও উঠেছে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের আইনজীবী অনুরাগ পান্ডে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী এই বিয়ের কোনো আইনি বৈধতা নেই। তিনি বলেন, ‘হিন্দু আইনে একজন হিন্দু পুরুষ একই সময়ে একাধিক নারীকে আইনিভাবে বিয়ে করতে পারেন না। এ ধরনের বিয়ে আইনের দৃষ্টিতে বাতিল এবং এর মাধ্যমে বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না।’
ভারতীয় আরেক সংবাদমাধ্যম দৈনিক ভাস্করের ইংরেজি সংস্করণের এক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, চামুণ্ডা মাতা মন্দিরের ব্যবস্থাপক ড. শিবচরণ দাস জানান, মন্দিরে সংস্কারকাজ চলছিল। তাই বিয়ের সময় সেখানে কোনো পুরোহিত উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে, হাসানপুর সার্কেল অফিসার পঙ্কজ ত্যাগী জানান, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ চারজন এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে। তিনি বলেন, ‘তাঁরা আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের ইচ্ছায় এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাঁদের বাবা-মাও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি জানাননি। ভবিষ্যতে যদি কোনো অভিযোগ করা হয় বা কোনো আমলযোগ্য অপরাধের বিষয় সামনে আসে, তাহলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে, স্থানীয় কয়েকটি হিন্দু সংগঠন এই বিয়ের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, ধর্মীয় স্থানে এ ধরনের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির পরিপন্থী। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি।




