
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ দেশের ১৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। তাদের জন্য বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টগুলোর কিছু এরই মধ্যে খালি হয়েছে। অন্যগুলোয় এখন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, অবসরে যাওয়া বিচারপতি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকছেন।
বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টের অবস্থান রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে।
এলাকাগুলো ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে পরিচিত।
বিএনপি ও সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র বলছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার হতে পারে ৩৮ সদস্যবিশিষ্ট। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১১ জন প্রতিমন্ত্রী এবং দুজনকে উপমন্ত্রী করা হতে পারে। শেষ মুহূর্তে এটি কম-বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বিকেল ৪টায় শুরু হবে। এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের সূত্রগুলো বলেছে, অতীতে দেখা গেছে, মন্ত্রিসভার সব সদস্য সরকারি বাসায় ওঠেন না। কেউ কেউ নিজ বাসায় থেকে অফিস করেন। ফলে এখন যেসব বাংলোবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে, এর মধ্যেই নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসনের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তা ছাড়া বাংলোবাড়ি-অ্যাপার্টমেন্টগুলো সংস্কার করে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এর পরই সেগুলোয় উঠতে পারবেন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।
নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে, সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন। এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন। সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করে। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বাকি আসনে জয়ী হয়েছেন।




