
ভারতীয় নারীর যৌতুক মামলায় বাংলাদেশি যুবক কারাগারে
যৌতুকের জন্য মারধরের অভিযোগে সোমবার (১০ এপ্রিল) আব্দুল ওয়াকিল নামে বাংলাদেশি এক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভারতীয় তরুণী। রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় দায়ের করা এ মামলায় আসামি আব্দুল ওয়াকিলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার উপপরিদর্শক মো. ফিরোজ আলী। এসময় আসামিপক্ষে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হায়দার তানভীরুজ্জামান বলেন, ভিকটিম ছেলের জন্য হিন্দু ধর্ম ছেড়েছে, পরিবার ছেড়েছে, রাষ্ট্র ছেড়েছে। তারপরও ছেলেটার মন পায়নি, যৌতুকেরজন্য মারধর করেছে।
নির্যাতিত মেয়েটা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নাগরিক। তিনি বাংলাদেশে মেডিকেলে পড়ালেখার জন্য এসেছে। এভাবে বিদেশি নাগরিকরা হয়রানির শিকার হলে আমাদের দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে।
এর আগে ১০ এপ্রিল ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেজাবিন চৌধুরী ওরফে অমৃতা দত্ত চৌধুরী বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় এ মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মেডিকেলে পড়ালেখা করতে বাংলাদেশে আসেন ভারতীয় তরুণী। বর্তমানে তিনি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সের চতুর্থ বর্ষে অধ্যায়ন করছেন। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশি আব্দুল ওয়াকিলের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। তার বাড়ী শেরপুর জেলায়। পড়ালেখা করেন ময়মনসিংহে নার্সিংয়ে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে ওয়াকিল তাকে হিন্দুধর্ম থেকে মুসলিম ধর্মগ্রহণ করতে বলেন।
২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভারতীয় তরুণী মুসলিম ধর্মগ্রহণ করেন। একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বরে ঢাকা জজ কোর্ট থেকে এভিডেভিড করে এক লাখ টাকা কাবিননামায় বিয়ে সম্পন্ন করেন তারা।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, কলকাতায় অনেক ধনসম্পদ আছে জেনে ওয়াকিল যৌতুক দাবি করেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ভারতীয় তরুণীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। দেশের বাড়িতে (শ্বশুরবাড়ি) নিয়ে যেতে বললে ওয়াকিল তালবাহানা করে তাকে বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যেতেন এবং মাঝে মধ্যে হোটেলে একসঙ্গে থাকতেন। বর্তমানে ভারতীয় তরুণী নয় সপ্তাহের গর্ভবতী। গত ৫ মার্চ বিষয়টি তাকে জানালে ওয়াকিল গর্ভপাত করতে বলেন। প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করেন। তাকে দশ লাখ টাকা না দিলে তালাক দেবে বলে হুমকি দেন।




