২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শাজাহানপুর স্ত্রী -সন্তান হ’ত্যা মামলা সেনাসদস্য স্বামী আদালতে সোপর্দ

spot_img

 বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খলিশাকান্দি গ্রামে মা ও দুই শিশুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সেনাসদস্য শাহাদাত হোসেন কাজলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নিহত সাদিয়া মোস্তারিনের মা রাবেয়া সুলতানা শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় শাহাদাতকে প্রধান আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দহপাড়ার টিনসেট ঘর থেকে সাদিয়া (২২), তার মেয়ে সাইফা (৩) ও সাত মাসের ছেলে সাইফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই শিশুকে গলা কেটে হত্যা করা হয় এবং সাদিয়ার গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। ঘটনাটি এলাকায় চরম শোক ও আতঙ্ক তৈরি করেছে।

ঘটনার পরপরই সেনাসদস্য স্বামী শাহাদাতকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। তিনি ময়মনসিংহ সেনানিবাসে কর্মরত এবং ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন।

নিহতের মা অভিযোগ করেন, গত তিন বছর ধরে শাহাদাত তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। জমি বিক্রির টাকা ও মোটরসাইকেলের জন্য তিন লাখ টাকা দাবি করতেন। ঘটনার আগের দিনও ফোনে টাকা দাবি করেন এবং সাদিয়াকে মারধরের কথা জানান।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়—২৪ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ২৫ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে শাহাদাত ও তার সহযোগীরা দুই শিশুকে গলা কেটে এবং সাদিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করার চেষ্টা করা হয়। পরিবার জানায়—ঘরে রক্তাক্ত লাশ থাকলেও পাশে পাওয়া লোহার বটিতে রক্ত ছিল না—যা তাদের কাছে পরিকল্পিত হত্যার প্রমাণ মনে হয়েছে।

তবে শাহাদাতের পরিবারের দাবি—সাদিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এবং আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের মতে, সাদিয়াই সন্তানদের হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের পরিবার অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য—দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকার পর তিনজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে সবাই হতভম্ব হয়ে যায়। কোনো শব্দ না শুনে বিষয়টি আরও রহস্যজনক মনে হয়েছে।

শাজাহানপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলা রুজু হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। শাহাদাতকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ময়নাতদন্ত শেষে সাদিয়ার লাশ ভান্ডারপাইকা গ্রামে এবং দুই শিশুর লাশ খলিশাকান্দিতে দাফন করা হয়েছে। এলাকায় ন্যায়বিচারের দাবিতে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ