৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ডিভাইডার ও সাইড লেনের ত্রুটিতে বাড়ছে প্রাণহানি

spot_img

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরে ফেরা মানুষ ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে, আহত হয়েছেন অসংখ্য। চার লেনের মহাসড়কে যান চলাচলের গতি বাড়লেও শেরপুর অংশে ডিভাইডার ও সাইড লেনের ত্রুটিপূর্ণ নকশা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এই অংশে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে মূলত দায়ী মহাসড়কের ডিভাইডার ও সাইড লেনের নকশাগত ত্রুটি।

গত ১৭ মার্চ বুধবার শেরপুরে একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা দিলে তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হন। একই দিন ধুনট মোড় থেকে সীমাবাড়ী বগুড়া বাজার পর্যন্ত আরও তিনটি দুর্ঘটনায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরদিন সেরুয়া বটতলা এলাকায় শরীফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাস উল্টে একজন আহত হন। গাড়িদহ ইউনিয়নের বগুড়া পাড়া এলাকায় উল্টো দিক থেকে আসা ট্রলির সঙ্গে সংঘর্ষে এক মোটরসাইকেল আরোহীর একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরদিন রাতে মির্জাপুর এলাকায় রাস্তায় ইউ-টার্ন নেওয়ার সময় চারটি গাড়ির সংঘর্ষে এক ড্রাইভার দুই পা হারান এবং তাঁর সহযোগী গুরুতর আহত হন। ঈদের পর রাজাপুর এলাকাতেও সাইড লেন ও ডিভাইডারে ট্রাকের অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়দের মতে, ঘোগা ব্রিজ এলাকা, ভোগা ব্রিজসংলগ্ন বামুনিয়া, চান্দাইকোনা বগুড়া বাজারের ওভারপাস ডিভাইডার, বেতগাড়ি পেন্টাগন হোটেলের সামনে সাইড লেন, ধনকুন্ডি ফুড ভিলেজের সামনে ওভারপাসসংলগ্ন ডিভাইডার, ঘোগা বটতলায় সিপি কোম্পানির সামনে সাইড লেন, সুন্দর কোম্পানির সামনে অপরিকল্পিত লাইন, ছোনকা কলেজ রোডের ডিভাইডার এবং এসআর কেমিক্যালের সামনে এলোমেলো সাইড লেনসহ বেশ কয়েকটি স্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

দুর্ঘটনায় আহত চালক জিহাদ বলেন, “রাস্তার মাঝখানে হঠাৎ সাইড লেন। ৫০ ফুট সামনে সিগন্যাল থাকার কথা থাকলেও তা নেই। যেভাবে সাইড লেন ও ডিভাইডার দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুল। উদ্ধার কাজও খুব ধীরগতির। এই মহাসড়কে সতর্কতামূলক চিহ্ন খুব কম। প্রতি মাসে প্রায় ৫০টি দুর্ঘটনার মূল কারণ এই ভুল ডিভাইডার।”

হাইওয়ে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে ওভারটেকিং ও লেন না মানাকে উল্লেখ করেছেন।

ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ডিভাইডার ও সাইড লেনের ত্রুটিতে প্রাণহানি বাড়ছে

ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ডিভাইডার ও সাইড লেনের ত্রুটিতে প্রাণহানি বাড়ছে

শেরপুর সড়ক উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শেখ রুহুল আজম বলেন, “মহাসড়কের ডিভাইডার ও সাইড লেনের কিছু নকশাগত ত্রুটির বিষয়ে আমরা অবগত। সাসেক প্রকল্প-২ থেকে রাস্তা বুঝে পেলে পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, “রাস্তার ডিভাইডার ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। সাসেক প্রকল্প-২ এখনো সড়ক বিভাগকে রাস্তা বুঝিয়ে দেয়নি। মহাসড়কের ডিজাইন পুরোনো, তাই ত্রুটি থাকতে পারে। সাসেক ও সড়ক বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে ডিজাইনের ত্রুটি সংশোধন করা হবে। চালকদের ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রইচ উদ্দিন বলেন, “ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক খুবই ব্যস্ত। ঈদের আগে ও পরে কয়েকটি দুর্ঘটনায় অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। দূর থেকে ডিভাইডার দৃশ্যমান না হওয়ায় গাড়িগুলো সরাসরি ধাক্কা খাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করা হবে।”

অন্যদিকে, শেরপুর বাসস্ট্যান্ড ও কলেজ রোড এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও ডিভাইডারের মাঝে সরু পারাপারের পথ থাকায় পথচারীরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। হাসপাতাল রোডের মুখেও একই অবস্থা।

শেরপুর উপজেলার বাইরের অংশে সাইড লেন থাকলেও শহরের ভেতরে তা নেই। ফলে অটোরিকশা ও রিকশা উল্টোপথে চলাচল করছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রবেশমুখ দখল করে স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় মহাসড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা সদর ও ধুনট মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউ-টার্নগুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই—এ নিয়ে উদ্বেগে এলাকাবাসী।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ