২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

তিন দফা বন্যার সাথে যুদ্ধ করে আমরা ক্লান্ত, অসুস্থ’

spot_img

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

এক মাসের ব্যবধানে টানা তিনবার প্লবিত হলো সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল। তিনবারের বন্যায় সীমাহীন দুর্ভোগে আছেন বানভাসিরা। একবারের বন্যার পানি নামতে না নামতেই আবারো ভেসে যায় ঘর। এমন অবস্থায় বুক ভরা কষ্ট নিয়ে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম তেঘরিয়া এলাকার সেলিনা বেগম করুন কন্ঠে বলেন, তিন দফা বন্যার সাথে যুদ্ধ করে আমরা ক্লান্ত, অসুস্থ।

বরিবার সকালে প্লাবিত এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নদীর পানি কমলেও কমেনি হাওরের পানি। ঝাওয়ার হাওরের জলাবদ্ধতার পানিতে ডুবে যাওয়া সেলিনা বেগমের ঘর এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। একমাস হয় ঘরের পানি শুকায়নি। একদিনের জন্যেও শুকায়নি সড়কের পানি। ঘরের উপরে তুলে রাখা বিছানা বালিশ সহ আসবাপত্র সব কিছু। একমাস পানিতে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি।

সেলিনা বলেন, কোরবানী ঈদের আগে ঘরে পানি ঢুকে। ঈদ কাটিয়েছি আশ্রয় কেন্দ্রে, বিশ দিন ছিলাম। আশ্রয় কেন্দ্রে আর কতদিন থাকা যায়। তাই পানি থাকা ঘরেই এসেছি। ঘরে রান্না বান্না নেই। তিন দফা বন্যার সাথে যুদ্ধ করে আমরা ক্লান্ত, অসুস্থ। আমি আমার মেয়ে নাতিপুতি সবাই অসুস্থ হয়ে গেছে। আমার হাই প্রেসার সাথে জ্বর নাতিদের পেটে সমস্যা। জলাবদ্ধতার পানি ঠেলতে ঠেলতে হয়রান। এরমধ্যে এখন না খেয়ে মরার অবস্থা। আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় একবার সহযোগিতা পেয়েছিলাম- তা দিয়ে কয়দিন খাওয়া-দাওয়া চলেছে। এরপর আর কোন সহযোগিতা পাইনি। ঘরে কোন পুরুষ মানুষ নেই, খাবারও নেই। অসহায় হয়ে উপরওয়ালার হাতে ভাগ্য ছেড়ে দিয়েছি।

তার মেয়ে তমা বলেন, এক মাসে তিনবার পানির ধাক্কা খেলে, জীবন আর জীবন থাকে না, খুবই কষ্ট করে চলছি। পানি আমাদের পিছু ছাড়ছে না। সন্তানদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে চাল সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর ২৫ থেকে ৩০ কেজির একটি প্যাকেট সহযোগিতাপাঠান পৌর মেয়র নাদের বখত।
এমন নিদারুন কষ্টে জীবন কাটছে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল ও হাওর পাড়ের হাজারো পরিবারের লাখো মানুষের।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ