
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
নদীভাঙনে হারিয়েছেন পৈতৃক ভিটেমাটি। সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। সেখানে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট্ট একটি ঘর তৈরি করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন। পাশাপাশি বাঁধের ওপর চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এবার সেই শেষ আশ্রয়টুকুও হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন প্রতিবন্ধী মোখলেছুর রহমান।
বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভুতবাড়ি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বসবাসকারী মোখলেছুর রহমানের অভিযোগ, একই গ্রামের জহুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তাঁর বসতঘর উচ্ছেদ করে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছেন। এতে পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, যমুনা নদীর ভাঙনে পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের ওপর বসবাস করছেন মোখলেছুর রহমান। অনেক কষ্টে ছোট্ট একটি ঘর তৈরি করে সেখানে পরিবার নিয়ে থাকছেন। পাশাপাশি ঘরের সামনে চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার চালান তিনি। অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে কোনোরকমে দিন পার করা এই পরিবারটির কাছে বাঁধের ওপরের ঘরটিই এখন শেষ আশ্রয়।
মোখলেছুর রহমানের অভিযোগ, জহুরুল ইসলাম তাঁর বসতঘর উচ্ছেদ করে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছেন। এতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় মোখলেছুর রহমান বাদী হয়ে রোববার (২ নভেম্বর) দুপুরে জহুরুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জহুরুল ইসলাম বলেন, মোখলেছুরের বসতবাড়ি উচ্ছেদের কোনো চেষ্টা করা হয়নি। তাঁর বাড়ির সামনে বাঁধের ওপর একটি দোকানঘর নির্মাণের জন্য সামান্য জায়গা চেয়েছি। এ কারণে তিনি আমার ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।




