
বগুড়ার গাবতলীতে অবস্থিত পল্লী নার্সিং ট্রেনিং সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও বগুড়া নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর মো. আনিছার রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে সরকারি ১৬ লাখ ৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললেও দীর্ঘ সময় পার হলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে অনিয়মিত শ্রমিক মজুরিসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে আনিছার রহমানের বিরুদ্ধে।
এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মাত্র ৮ মাসে পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী, গ্যাস, জ্বালানি, বিছানাপত্র, কম্পিউটার সামগ্রী, মেরামত ও মনোহারী দ্রব্যসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে আরও প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে সরকারি ১৬ লাখ ৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে জারি করা ০২৮/২০২৫ নম্বর বিভাগীয় মামলার অভিযোগনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের গঠিত পরিদর্শন কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
অভিযোগনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী আনিছার রহমানকে অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে কেন তার বিরুদ্ধে বরখাস্তসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে গত ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের পরিচালক (শৃঙ্খলা) মোছা. শিউলি খাতুন স্বাক্ষরিত আরেক নোটিশে জানানো হয়, আনিছার রহমান অভিযোগের জবাব দিয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষ তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই অনুযায়ী ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মহাপরিচালকের কার্যালয়ে শুনানির জন্য তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
তবে শুনানির প্রায় সাত মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
এ বিষয়ে জানতে ইন্সট্রাক্টর মো. আনিছার রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোন বক্তব্যে পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পরও কীভাবে তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।




