২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি, অথচ ৮০ হাজার কোটি বাড়িয়েছে ইউনূস সরকার

spot_img
কা ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬দুপুর ১২:৪৭:৫০

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় বসেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অতিমূল্যায়িত ও প্রশ্নবিদ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার করেছিল। বারবার সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের নামে অযৌক্তিক ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধ করার পাশাপাশি এডিপির আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলো কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে—এমন আশ্বাসও দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বাস্তবে হয়েছে ঠিক তার উল্টো। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার কার্যত উল্টোপথে হেঁটেছে। ক্ষমতায় বসে অতিমূল্যায়িত ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্পে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বদলে পুনর্মূল্যায়নের নামে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। সরকারি নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় কমার বদলে বরং ব্যয় বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে একের পর এক প্রকল্পের ব্যয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেড় বছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ১৯টি সভা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব সভায় ৮৭টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বৈঠকে গড়ে প্রায় পাঁচটি প্রকল্পে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র সাতটি প্রকল্পের ব্যয় কমানো হয়েছে, বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। ১৫টি প্রকল্পের ব্যয় অপরিবর্তিত রাখা হলেও কাজ শেষ করার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

তথ্য বলছে, ৭টি প্রকল্পের ব্যয় কমানোয় মোট সাশ্রয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা, যা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর আগের ব্যয়ের মাত্র ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিপরীতে ৬৫টি প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। এসব প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধনের পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকায়—অর্থাৎ মোট ব্যয় বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দেড় বছরে ১৩৫টি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় অনুমোদন পেয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ব্যয় বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় বাস্তবায়িত হবে এমন প্রকল্প। বিপরীতে ২১টি জেলার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রকল্প পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন—প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন বাজেটে অপচয়ের পুরোনো চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সংশোধনী সিদ্ধান্তে যে ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে, তা সেই ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশা ছিল, তারা উন্নয়ন প্রকল্পে কঠোর নজরদারি করবে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাবে; কিন্তু বারবার প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানো সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইউনূস সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে সংশোধিত যে প্রকল্পগুলো অনুমোদন পায়, তার একটি ছিল বাখরাবাদ-মেঘনাঘাট-হরিপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন প্রকল্প। আগে যেখানে ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা, সেখানে তা বাড়িয়ে করা হয় ১ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ২৬৬ কোটি টাকা। একই বৈঠকে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক একটি কর্মসূচির ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ১৬৩ কোটি টাকা।

মেয়াদের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করে ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে। ২০১৬ সালে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা, যা পরে বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

ঢাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য নেওয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপেও বড় অঙ্কের ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫ সালে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকায়। এখন এর ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ১৫ কোটি টাকায়, অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা বা আড়াই গুণেরও বেশি।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ