২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শাজাহানপুরে বিদ্যুৎতের লুকোচুরি অতিষ্ঠ জনজীবন

spot_img

‎মো: আব্দুল হান্নান:

‎ বগুড়ার শাজাহানপুরে একের পর এক লোডশেডিংয়ের কারণে দিনের পাশাপাশি রাতেও জনজীবনেও নেমে এসেছে দুর্ভোগ। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে জেলার অর্থনীতিতেও। বোরো মৌসুমে সেচ নির্ভর জমিতে পানি দিতে বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।

‎মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুতের আসা-যাওয়া যেন লুকোচুরি খেলার মত। বুধবার (২২ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের পর সকাল ও দিনের বিভিন্ন সময়ও একই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে। দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে স্থানীয়রা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও শ্রমজীবী মানুষ। রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ঘুম। লোডশেডিংয়ের সময় অনেকেই বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন।

‎উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর যখন পড়াশোনার মূল সময়, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। মোমবাতির আলোতে দীর্ঘক্ষণ পড়ালেখা করা কঠিন হয়ে পড়ছে, যা তাদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে, চলমান এসএসসি পরিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুতের এই অনিয়মের কারণে সন্তানদের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।

‎অটোচালক শাহীন আলম বলেন, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমাদের অটোরিকশা ফুল চার্জ করতে পারি না। রাতে ঘুমাতে অনেক কষ্ট হয়। এমনিতেই আমাদের এখানে তীব্র গরম চলছে, তার ওপর আবার বিদ্যুৎ থাকে না। খুব কষ্টে আছি।’ জনসাধারণ এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত পরিত্রাণ এবং বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

‎বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন শাজাহানপুর জোনাল অফিসের (ডিজিএম) ট্যাকনিক্যাল আহসান হাবীব সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এ অবস্থা। শাজাহানপুরে বিদ্যুতের চাহিদা ১৬.৫ মেগাওয়াট, সেখানে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি ৭.৫ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬০% কম। প্রত্যেক দেড় ঘন্টা পরপর ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করছি।  তিনি আরো বলেন, এরই মাঝে বিদ্যুতের মেইন লাইন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে যেটাকে স্ক্যাটাগরেশন বলা হয়। ফলে শাজাহানপুরবাসী বিদ্যুৎ পাচ্ছে ৯ ঘন্টারও কম।’

কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আবহাওয়া ঠান্ডা বা বৃষ্টিপাত হলে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে।’

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ