
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
অনেককে সেজন্য দুনিয়াতে থাকতেই পরিণতি ভোগ করতে হয়। সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারককে তো আপনারা কলাপাতায় ঘুমাতে দেখেছেন। তার বিছানার অভাব ছিল না। তার সৎ সাহসের, সততার, মানবতাবোধ, স্বচ্ছতার অভাব ছিল। সুবিচার দেয়ার অভাব থাকায় তাকে বনে-জঙ্গলে কলাপাতায় ঘুমাতে হয়েছে। অন্যদিকে সাড়ে ১৫ বছর জাতিকে দারুণভাবে দাপিয়েছেন একজন। মাঝে মধ্যে তিনি বিনা টিকেট ও ভিসায় আমাদের বিদেশে পাঠিয়ে দিতেন। আল্লাহ্ তার বিচার করেছেন। তারা আমাদের জন্য যা পছন্দ করেছিলেন, আল্লাহ্ তাদের জন্য তাই পছন্দ করেছেন। এখন তাদের অনেকে বিনা ভিসা ও টিকেটে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়েত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুম-খুনের বিচায় চায়।
শনিবার দুপুরে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের কর্মী সভায় বাংলাদেশ জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। সকাল সাড়ে দশটায় সমাবেশ শুরু হয় যোহরের নামাজের পূর্ব পর্যন্ত বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমদ খান।
জেলা জামায়েতের সেক্রেটারী অধ্যাপক আব্দুল্লা ও সাবেক ছাত্রশিবির নেতা রেজাউল করিম রেজা’র সঞ্চালনায় সমাবেশে- বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়েতের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সিলেট মহানগর জামায়েতের আমীর ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা জামায়েতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান সহ কেন্দ্রীয়, সিলেট বিভাগীয় ও সুনামগঞ্জ জেলা নেতৃবৃন্দ।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীর নেতৃত্বের জায়গায় যারা থাকেন, তাদের সুনির্দিষ্ট কমিটমেন্ট, মিশন ও ভিশন থাকতে হবে। রাজনীতিতে ধোঁকাবাজি ও মিথ্যাচার দেখতে দেখতে দেশের জনগণ এখন ক্লান্ত-বিরক্ত। ধোঁকাবাজদের দিয়ে রাজনীতির আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আমরা গুম-খুনের বিচার এজন্য আগে চাই। ভবিষ্যতে যাতে এভাবে কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে না পারে। সেটি নিশ্চিত করার জন্য এর বিচার হওয়া জরুরি।
জেলা জামায়েতের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মী সম্মেলনে সকাল থেকেই ১২ উপজেলাসহ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নেতা কর্মীরা খ- খ- মিছিল নিয়ে এসে সমবেত হন। একসময় কানায় কানায় পূর্ণ হয় সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ।




