২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিএনপিতে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার পাবেন যারা

spot_img

সাংগঠনিক জেলা কমিটি পুনর্গঠনে কাজ করছে বিএনপি। বর্তমান বাস্তবতা ও বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ মাথায় রেখে অপেক্ষাকৃত তরুণদের নেতৃত্বে আনা হচ্ছে দলটিতে। গত রোববার ১৩ জেলায় নতুন আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে।

কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি জেলায় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিও হয়েছে। এসব কমিটিতে সাবেক ছাত্রদল ও যুবদল নেতাদের শীর্ষ পদসহ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে মেধা, পরিশ্রম ও ত্যাগকে বিবেচনায় রেখে গঠন হচ্ছে এসব কমিটি। তরুণ নেতৃত্বে আস্থা রেখে দলকে পুনর্জাগরণের চেষ্টা চলছে। দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে অনেকে সংসদ নির্বাচনেও পেতে পারেন মনোনয়ন।
সদ্য ঘোষিত বিএনপির সাংগঠনিক জেলা কমিটি ও জেলার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এগুলোতে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যাদের রাজনীতির হাতেখড়ি ছাত্রদল ও যুবদল থেকে। নেতাদের মতে, এসব কমিটি গঠনের পেছনে জাতীয় কাউন্সিল ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেরও যোগসূত্র রয়েছে।

আগামী সংসদ নির্বাচনে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব ভালো ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে তাদেরই হয়তো বিভিন্ন আসনে (নিজ এলাকায়) প্রার্থী করা হবে-এমন চিন্তাও রয়েছে।

নেতাদের মতে, সামনে জাতীয় কাউন্সিল করারও পরিকল্পনা আছে। এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা পদ পাবেন, তাদের জেলা বা তৃণমূলের কোনো কমিটির নেতৃত্বে রাখা হবে না-এমন পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্র ও জেলার নেতৃত্ব আলাদা হবে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, তৃণমূলের কমিটি গঠন শেষ করে সাংগঠনিক জেলা কমিটির নেতৃত্ব ঠিক হবে সম্মেলন বা কাউন্সিলের মাধ্যমে সরাসরি ভোটে। সে হিসাবে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ২ মাস ইতোমধ্যে পার হয়েছে।

নতুন কমিটিতে অধিকাংশই সাবেক ছাত্র ও যুব নেতারা : রোববার ১৩টি জেলায় নতুন আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়। এসব কমিটি পর্যালোচনা করে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার নতুন কমিটির আহ্বায়ক রহমতউল্লাহ পলাশ ছিলেন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সদস্য। সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, তাজকিন আহমেদ চিশতী ও আখতারুল ইসলাম ছাত্রদল থেকে উঠে আসা নেতা।

মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল নেতা ছিলেন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদারবক্স হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম মেহেরপুর কলেজ ও অধ্যাপক ফয়েজ মোহাম্মদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলার শীর্ষ পদে ছিলেন।

এছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান চৌধুরী বাবুল, মিজানুর রহমান ডিউক, মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাবও ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতা। বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ রেজাও ছাত্রদল থেকে উঠে এসেছেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত হোসেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।
জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, ‘তরুণদের নেতৃত্বে আসার পথ থাকতে হবে। তাদের সুযোগ বাড়াতে হবে। তরুণদের মধ্যে যারা দক্ষ, যোগ্য এবং আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছে তারা নিজের নেতৃত্ব ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠা করেছে। এ কারণে তাদের সুযোগটা বাড়ানো উচিত।

আর প্রবীণ যারা আছেন, খুব বেশি বয়স্ক নন কিন্তু ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগে দল পরিচালনার জন্য। এক্ষেত্রে কিছু প্রবীণ নেতাও রয়েছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ পদে তরুণদের এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে তাদের সার্ভিসটা পাওয়া যায়। তাদের দক্ষতা এবং কাজ দেখানোর সুযোগ থাকে। যেহেতু অপেক্ষাকৃত তরুণরা বেশি পরিশ্রম করতে পারবেন এ কারণেই তাদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ