২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণে দাতা সংস্থা খোঁজা হচ্ছে

spot_img
এতেই থেমে আছে প্রকল্প। এদিকে প্রকল্পটির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলছেন, ভারত টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় নতুন দাতা সংস্থা খোঁজা হচ্ছে। জাপান সরকার আশার আলো দেখালেও সেই বাতিও আর জ্বলছে না। তবে চীন সরকার প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে এমন কথাবার্তা কেবলমাত্র আলোচনায় রয়েছে।
অর্থায়ন এখনো নিশ্চিত না হলেও বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে ব্যয় বেড়েছে ৩২৩ কোটি টাকা। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। এখন সমীক্ষা শেষে জমির পরিমাণ কমে ৯০১.৭৭ একর হলেও অধিগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ হাজার ২৪৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা।জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ভারত ঋণের কোনো অর্থছাড় করেনি।

ফলে চলতি বছরের মার্চে বাংলাদেশ সরকার ভারতীয় অর্থায়ন বাতিল করে। ফলে এই প্রকল্পের জন্য নতুন অর্থায়নকারীকে খোঁজা হচ্ছে।বর্তমানে উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের প্রধান ভরসা হচ্ছে যমুনা সেতু হয়ে রেল ও সড়কপথ। কিন্তু অতিরিক্ত চাপ ও রুট জটিলতার কারণে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। নতুন এই রেলপথ সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া হয়ে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে ঢাকা ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দূরত্ব অনেক কমিয়ে আনবে।

“সরাসরি সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ট্রেন চলাচল শুরু হলে ঢাকা-বগুড়া যাত্রায় সময় কমবে প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।

খুব শিগগির অর্থায়নকারী সংস্থা খুঁজে পাওয়ার আশা করছি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কাজ করছে।” মো. আবু জাফর মিঞা, প্রকল্প পরিচালক

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এ রেললাইনের বগুড়ার শাজাহানপুর অংশে ভূমি অধিগ্রহণের নোটিস বিতরণের সময় জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ করেছেন। গত ৫ নভেম্বরের ওই ঘটনায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দুই কর্মচারীকে নিয়ে উপজেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। তাদের ঘুষ নেওয়ার এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ভার্চুয়াল জগতে। নিয়ম অনুযায়ী নোটিস বিতরণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হলেও দুই কর্মচারী প্রত্যেক ভূমি মালিকের কাছ থেকে ২০০-৩০০ টাকা করে আদায় করেন। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নোটিস প্রদানে গড়িমসি ও দুর্ব্যবহার করেন তারা।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক তাদের নিজ নিজ এলএ (ভূমি অধিগ্রহণ) পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যয়ের চূড়ান্ত প্রাক্কলন দিয়েছেন। এতে আগের অনুমান থেকে ৩২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা বেশি লাগছে। ডিপিপিতে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের সুযোগ না থাকায় বিশেষ সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হলে মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। এই প্রকল্পের জন্য অর্থায়নকারী সংস্থাকে খোঁজা হচ্ছে। নতুন অর্থায়নকারী পাওয়ার পরে কাজ শেষ করতে আরও তিন-চার বছর লাগবে। অর্থ পাওয়া গেলে ঠিকাদার নিয়োগসহ দরপত্রের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে। প্রকল্প পরিচালক মো. আবু জাফর মিঞা জানান, খুব শিগগিরই অর্থায়নকারী সংস্থা খুঁজে পাওয়ার আশা করছি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কাজ করছে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ