২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট

spot_img

শেষ পর্যন্ত ভেঙেই গেল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন জামায়াত জোটে থাকছে না। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে এটা জানিয়ে দেয়ার কথা রয়েছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে জোট শরীকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কমপক্ষে ৮০ আসন না ছাড়া হলে তাদের পক্ষে জোটে থাকা সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়া জোটের অন্য শরীকরা আলাদা ভাবে বৈঠক করেন। সেখান থেকে খেলাফত মজলিসের একাংশের আমীর মাওনালা মামুনুল হক আবারো চরমোনাইয়ের পীরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আসন বন্টন নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে তিনি ব্যর্থ হন। গভীর রাতে জামায়াতের একজন নেতাকে পুরো পরিস্থিতি অবহিত করেন মাওলানা মামুনুল হক।

জোটের একাধিক শরিক ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, চরমোনাইয়ের পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে জোটে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

চরমোনাইয়ের পীরের দল জোটে না থাকলেও অন্য সব দল জোটে থাকছে বলে নিশ্চিত করেছেন শরীক দলের একাধিক নেতা। অর্থাৎ ১১ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোট হতে যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান—আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। এরপর গতকাল স্থগিত হওয়া সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

খেলাফত মজলিসের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জোটের অন্য শরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

তিনি আরো জানান—নতুন করে কিছু আসনে বিন্যাস হতে পারে, তবে তাতে কোনো সমস্যা হবে না।

জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির যোগদানের পর থেকে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে চাপ বাড়তে থাকে। এনসিপির জোটে যোগদানকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এরপর দলটি দাবি করে—১৪৩টি আসনে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো সমর্থন আছে। এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের আসন দাবি করে দলটি।

প্রথমে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪০ আসন ছাড়া হয়, পরে ৪৫টিতে গিয়ে দাঁড়ায়। এর সঙ্গে ৬ থেকে ৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন ৮০ আসনের জন্য ছিল অনঢ়। জোটে অন্য শরিকরা চরমোনাইয়ের পীরকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অপরদিকে ৮০ আসন ছাড়ার কোনো সুযোগ ছিল না জামায়াতের। কারণ এতে সম্ভাবনাময় আসনগুলো শুধু হাতছাড়া হবে না, একটি দলকে বিপুল সংখ্যক আসন ছাড়লে অন্যদলগুলোর পক্ষ থেকে আরো বেশি আসন দাবি করা হতো। এ পরিস্থিতিতে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেটা সফল হয়নি।

চরমোনাইয়ের পীরের ইসলামী আন্দোলনের ২৬৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব আসনে এখন তারা হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আলাদা নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

জোট ভাঙার খবর কয়েকদিন থেকে চাউর হলেও বুধবার ব্যাপকভাবে এটা ছড়িয়ে পড়ে। জামায়াত জোট বিকাল ৪টায় প্রেস কনফারেন্স ডাকলেও শেষ পর্যন্ত চরমোনাইর পীরের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় তিনি প্রেস কনফারেন্সে যোগ দিতে অপারগতা জানান। ফলে প্রেস কনফারেন্সই স্থগিত হয়ে যায়। রাতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়ের জোটে সমস্যার কথা স্বীকার করলেও এটা কেটে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। কিন্তু কাল সারাদিন ও রাতেও চেষ্টা চালিয়ে সমঝোতায় পৌঁছা যায়নি। শেষ পর্যন্ত আজ সকালে জোট ভাঙার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ