
গোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে ২৪ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার বিকাল ৫:০০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘সংশপ্তক সাহিত্য আড্ডা’ শীর্ষক এক পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। আড্ডার সূচনা হয় মো. আহসান উল্লাহর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। প্রারম্ভিক পর্যায়ে তিনি শিরোনামের মর্মার্থ বিশ্লেষণ ও প্রাসঙ্গিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে উপস্থিত শ্রোতাদের আগ্রহ ও ঔৎসুক্য বাড়িয়ে তোলেন।
আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “স্মরণে ইকবাল: চিন্তার পুনর্জাগরণ ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা”। আড্ডার প্রতিটি পর্বে দার্শনিক কবি আল্লামা ইকবালের দর্শনের গভীরতা অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনাকে নাড়িয়ে দেয়। প্রাণবন্ত আলোচনা, যুক্তি-বিনিময়, অনুভূতির প্রকাশ এবং কবিতা পাঠ সব মিলিয়ে এটি এক অনন্য বৌদ্ধিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।
পাঠচক্রের আলোচনার শুরুতেই প্রথম বক্তা হিসেবে ঐকান্তিক সোমাদ্দার বিষয়বস্তুর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করে তত্ত্ব, তথ্য ও উপাত্তের মাধ্যমে সামগ্রিক ভাববস্তু তুলে ধরেন।তার বক্তব্যে উঠে আসে আল্লামা ইকবালের আধ্যাত্মিক চেতনা,বহুমাত্রিকতা,জায়ানবাদ (ইহুদি আগ্রাসন) বিরোধিতা, বিউপনিবেশায়ন, মাদানি-ইকবাল বিতর্কের বিভ্রান্তি নিরসন, ইকবালের কবিতাসমূহ ও পিএইচডি অভিসন্দর্ভের বিশ্লেষণ এবং তথাকথিত সুশীলদের উন্নাসিকতা।
নাফিস আহমেদ শাওন তুলে ধরেন ট্যাগিং সর্বস্ব জ্ঞানচর্চার অসারতা, পরিচয়বাদী রাজনৈতিক পায়তারা কিংবা রাজনীতির অপরায়ণ প্রসঙ্গে ইকবালের ভাবাদর্শ। ধর্ম ও প্রগতিশীলতাকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচর্চা যে আখেরে অর্থহীন এ ব্যাপারে তিনি আলোকপাত করেন
দিগন্ত বিশ্বাস উপস্থিত সকলকেই নিবিষ্ট শ্রোতা হওয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেন। পাঠের মাধ্যমে বোধ তথা উপলব্ধি অর্জনে উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি তিনি মতাদর্শের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিসচেতনতার স্তরে সমমর্যাদা লালনের ব্যাপারে আলোকপাত করেন।
পরিশেষে মো. রমজান মিয়া আল্লামা ইকবালের বুনিয়াদি সময়ের তাত্ত্বিক ভাঙাগড়া ও চিন্তাজগতের টালমাটাল অবস্থায় আত্মানুসন্ধান এবং Friedrich Nietzsche, Karl Marx, Vladimir Lenin এবং Guru Nanak-সহ বিভিন্ন দার্শনিকের চিন্তা থেকে ইকবালের ‘খুদি’ দর্শনের বিকাশ প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন।।সবশেষে, আল্লামা ইকবালের একটি কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে আড্ডার সমাপ্তি টানেন। এই আয়োজনকে সমৃদ্ধ করার জন্য বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রকে (ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, গোপালগঞ্জে ইউনিট)বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়, যাদের সৌজন্যে সেরা আলোচকদের বই উপহার প্রদান করা হয়। এছাড়া আয়োজনের সফল বাস্তবায়নে সাহিত্য সংসদের সাহিত্য দূতদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বিশেষ করে নবনিযুক্ত সাহিত্য দূত প্রজ্ঞা, বর্ষা ও ঐকান্তিকের ভূমিকা । সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে সকলের কাছে তাদের স্বপ্নের সাহিত্য পত্রিকা “অক্ষর”-এর জন্য লেখা আহ্বান জানানো হয় এবং নিয়মিত ‘সংশপ্তক সাহিত্য আড্ডা’-য় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। সবশেষে নিঘাত রৌদ্রের সংক্ষিপ্ত পরিসরে যাবতীয় তকমাকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তি ইকবাল ও তাঁর কবিসত্তার সর্বজনীনতাকে প্রাধান্য দিয়ে তাৎপর্য যাজনের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং আজকের পাঠচক্রের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।




