
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে বিবাদের সময় বাধা দিতে গিয়ে কিলঘুষি ও লাথিতে মো. সিরাজ উদ্দিন (৬৪) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় ধুনট উপজেলার গোয়ালভাগ গ্রামের বাবা-ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে নয়টার দিকে শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের নাকুয়া গ্রামে সিরাজ উদ্দিনের ভাই ছানোয়ার হোসেনের (৫০) বসতবাড়ির উঠানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিরাজ উদ্দিন নাকুয়া গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেফতার দুজন হলেন ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের গোয়ালভাগ গ্রামের তোজাম সরকার (৫৫) এবং তাঁর ছেলে মো. কাওসার আলী (২৬)।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাওসার আলী ও তাঁর বাবা তোজাম সরকার ছানোয়ার হোসেনের কাছে কিছু টাকা পেতেন। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য গতকাল রাত ৯টার দিকে তাঁরা ছানোয়ারের নাকুয়া গ্রামের বাড়িতে যান। ছানোয়ার পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য কয়েক দিন সময় চাইলে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁকেই ঘরের ভেতর থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে মারধর করতে থাকেন।
ছানোয়ারের ডাকচিৎকারে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর ভাই সিরাজ উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে মারামারি থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় কাওসার ও তোজাম সরকার উত্তেজিত হয়ে সিরাজ উদ্দিনকেও এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকেন। বিবাদের একপর্যায়ে ১ নম্বর আসামি কাওসার হত্যার উদ্দেশ্যে সিরাজ উদ্দিনের বুকে সজোরে লাথি মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এতে বুকের ডান পাশে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই ছটফট করতে করতে সিরাজ উদ্দিন মারা যান।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে এসআই বিকাশ, এসআই সুব্রত ও এসআই হায়দারসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স রাত ১টার দিকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত কাওসার আলী ও তোজাম সরকারকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় নিহত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
শেরপুর থানা-পুলিশ অফিসার ইনচার্জ একরামুল হোসাইন জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।




