
জিতলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত, আর হারলে গ্রুপের অন্য ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করতে হবে- ভারতের সামনে এমনই ছিল সমীকরণ। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার হওয়ায় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার শঙ্কাও ছিল। তাদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের যন্ত্রণা তো আছেই। তবে রোহিত শর্মারা এবার আর কোনো ভুল করেনি। মিচেল মার্শের দলকে ২৪ রানে হারিয়ে চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে ম্যান ইন ব্লুজরা। আর ভারতের এই জয়ে সুপার এইটে টানা দুই ম্যাচে হেরেও কাগজে কলমে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা টিকে আছে বাংলাদেশের৷
সোমবার (২৪ জুন) সেন্ট লুসিয়ার ড্যারেন স্যামি স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে রোহিত শর্মার ৯২ রানের অনবদ্য ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান করেছিল ভারত। জবাবে খেলতে নেমে ট্রাভিস হেডের লড়াকু ৭৬ রানের ইনিংসের পরেও ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রানের বেশি করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
কুড়ি কুড়ির এই বিশ্বকাপে সুপার এইটে গ্রুপ-১ এ টানা তিন জয়ে প্রথম দল হিসেবে সেমির টিকিট পেয়েছে ভারত। গ্রুপ-২ এর দ্বিতীয় সেরা দল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ২০০৭ সালে অভিষেক আসরের চ্যাম্পিয়নরা৷ এদিকে ভারতের এই জয়ে জমে উঠেছে বাকি তিন দলের সেমির সমীকরণ। অজিরা ছাড়াও বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের সেমিতে যাওয়ার সম্ভাবনা বেঁচে রয়েছে।
সেন্ট ভিনসেন্টে আজ ভোরে বাংলাদেশকে হারালে কোনো হিসেব ছাড়াই সেমিতে যাবে আফগানিস্তান। তখন বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া বিদায় নেবে। তবে বাংলাদেশ যদি আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতে যায় তাহলে তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান ২। তখন হিসাব আসবে নেট রানরেটের। যদি নাজমুল হোসেন শান্তর দল আগে ব্যাটিং করে ১৬০ রান করে এবং ৬২ রানের ব্যবধানে জিততে পারে তাহলে সেমিতে চলে যাবে টাইগাররা।
ম্যাচে জয়ের জন্য ২০৬ রানের টার্গেটের সামনে ভালোভাবেই এগুতে থাকে আস্ট্রেলিয়া। বিশেষ করে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে হেড ও অধিনায়ক মিচেল মার্শ আগ্রাসন চালিয়ে জমিয়ে তোলেন লড়াই। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর পথ হারাতে থাকে দলটি। নবম ওভারের শেষ বলে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে বিদায় নেন মার্শ। ৪৮ বলের জুটিতে ৮১ রান যোগ করেন দুজনে।
সঙ্গী হারালেও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান হেড। ১০ ওভার শেষে অজি স্কোরবোর্ডে ছিল ৯৯/২। ম্যাচ জেতার জন্য শেষ ১০ ওভারে তাদের প্রয়োজন পড়ে ১০৭ রান। হাতে ৮ উইকেট। কিন্তু এই সমীকরণ মেলাতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ম্যাক্সওয়েল (২০) আউট হওয়ার পর দলকে বেশিদূর টানতে পারেননি হেডও। দলীয় ১৫০ রানের মাথায় জসপ্রিত বুমরাহর বলে সাজঘরমুখো হন হেড। বিদায়ের আগে ৪৩ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। আর সেই সঙ্গে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিং আমন্ত্রণ জানান অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শ। ব্লুজদের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। কোহলি শূন্য রানে ফিরলেও মারকাটারি ব্যাট চালান রোহিত। মাত্র ১৯ বলে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। যা চলতি আসরে সবচেয়ে দ্রুততম। তবে ৪১ বলে ৯২ রান করে বিদায় নেন রোহিত। ৭টি এবং ৮টি ছক্কা মেরেছেন ইনিংসে৷ ১২তম ওভারে এই ওপেনার মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হয়ে যান। তিনি ব্যাটিং করেছেন প্রায় ২২৪ স্ট্রাইকরেটে।
রোহিতের গড়ে দেওয়া শক্ত ভিতে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে ভারতের মিডল অর্ডার। সূর্যকুমার যাদব-হার্দিক পান্ডিয়ারা যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেছেন। সূর্যকুমারের ব্যাট থেকে এসেছে ১৬ বলে ৩১ রান। হার্দিক অপরাজিত ছিলেন ১৭ বলে ২৭ রান করে।
এই জয়ে চলতি আসরে নিজেদের অজেয় রেকর্ড ধরে রাখল রোহিত ব্রিগেড। আগামী বৃহস্পতিবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ২০৫/৫ (রোহিত ৯২, সূর্যকুমার ৩১, দুবে ২৮, পান্ডিয়া ২৭, পন্ত ১৫; হ্যাজলউড ১/১৪, স্টার্ক ২/৪৫, স্টয়নিস ২/৫৬, জাম্পা ০/৪১)
অস্ট্রেলিয়া: ২০ ওভারে ১৮১/৭ (হেড ৭৬, মার্শ ৩৭, ম্যাক্সওয়েল ২০, ডেভিড ১৫, কামিন্স ১১* ; অর্শদীপ ৩/৩৭, কুলদীপ ২/২৪, অক্ষর ১/২১, বুমরা ১/২৯, জাদেজা ০/১৭)




