২২শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২২শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে

spot_img

চাপ কাটিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে। ধীরগতি হলেও মূল্যস্ফীতি কমছে। জাতিসংঘের অর্থনীতি এবং সামাজিকবিষয়ক বিভাগের ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাবনা ২০২৬’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিষয়ে এমন বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনামূলক কম প্রবৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে উচ্চ সুদের হার, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং সরকারি ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকায় মধ্য মেয়াদে অর্থনীতিতে ঝুঁকি রয়েছে।

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও চাপ পুরো কাটেনি বলে মন্তব্য জাতিসংঘের। প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি এখনও তুলনামূলক বেশি। মূল্যস্ফীতিকে বাগে আনতে আইএমএফের পরামর্শ মেনে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে; যেখানে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সুদের হার কমাতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের মতে, খাদ্যপণ্য ও আমদানিনির্ভর জ্বালানির দামের ঝুঁকি বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পথে প্রধান বাধা।

জাতিসংঘ বলছে, কৃষি খাতে স্থিতিশীল উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং আইএমএফ-সমর্থিত সংস্কার কর্মসূচির ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে গতি ফিরে পাচ্ছে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ায় গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় এখনও পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের হিসাবে ২০২৬ সালে এ অঞ্চলের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। এর মধ্যে ভারত প্রায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে। ভুটান ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখবে। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের আশপাশে সীমিত থাকবে।

দেশের মোট ঋণ নিয়ে এখনও শঙ্কার কিছু আছে বলে মনে করে না জাতিসংঘ। তবে দ্রুত হারে সুদ ব্যয় বাড়ছে বলে সতর্ক করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে মাঝারি ঝুঁকির ঋণ পরিস্থিতিতে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের মতো এখানেও সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। বাংলাদেশ এখন উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় নেই। তবে রাজস্ব আদায় দুর্বল থাকলে এবং বৈশ্বিক সুদের হার দীর্ঘদিন উচ্চ থাকলে ভবিষ্যতে বাজেট ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিষয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্কের কারণে অর্থনীতিতে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। অন্য সব কারণ মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এখনও নিম্ন প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি কমলেও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ সুদের হার এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য রপ্তানি ও বিনিয়োগ পরিবেশ চ্যালেঞ্জিং থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: সমকাল

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ