২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

নদীর পানি কমলেও হাওরপাড়ে ভোগান্তি কমেনি

spot_img

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জে নদীর পানি সামান্য কমলেও হাওরপাড়ের জনবসতিতে আবারও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। ধীরে নামছে হাওরের পানি।

গেল ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবং উজানের পাহাড়ী ঢল কম নামায় শনিবার বেলা ১২ টায় সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমার ১১ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে যাচ্ছিল। গেল ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টি হয়েছে ১২ মিলিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, গেল ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সুনামগঞ্জে নদীর পানি বিপদ সীমার নীচে নেমেছে। সীমান্ত নদীগুলোর পানিও কমেছে।

‘ঈদের দিন পানি ওঠছিল (ওঠেছিল), ঘরবাড়ি ছাড়ছিল (ছেড়েছিল) মাইনসে (মানুষে), ই-পানি (এই পানি) নামতে না নামতেই আরেকবার ওঠিগেলো (ওঠে গেল) পানি, যারা বাড়ি ছাড়ছিল (ছেড়েছিল) তারা কেউ কেউ কেউ আইতোই (আসতেই) পারলো না, যারা আইছিল (এসেছিল), তারা আবার গেল আশ্রয় কেন্দ্রে, কয়েক দিন অইছে (হয়েছে) পানি নামছে, ঘরের নরম মাটি পালাইয়া (ফেলে দিয়ে) ঘর শুকাইয়া (শুকিয়ে), গন্ধ যাইতে না যাইতে আরেকবার ওঠি গেছে পানি, কেমনে থাকবো মানুষ?

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর দক্ষিণ হাটির আনোয়ার মিয়া শনিবার সকালে গণমাধ্যম কর্মীদের এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে জানাচ্ছিলেন, সুরমা নদীর পাড়ের অচিন্তপুর, রাজারগাঁও, বৈঠাখালী, সোনাপুর ও লালপুর এলাকার নিচু এলাকার বাসিন্দারা এভাবে বার বার বন্যা হলে এলাকায় থাকতেই পারবেন না।

একই সুরে বলছিলেন, ইব্রাহিমপুরের আলম মিয়া। বললেন,‘ঈদের দিন ঘরও সেফ সেফা (সামান্য সামান্য) পানি আছিল (ছিল), ঘর থাকি বারানি (বের হওয়া) লাগছে বুক সমান পানি টেইল্লা (টেলে), এই পানি পায়ের ঘণ্টা পর্যন্ত কমতে না কমতেই আরেকবার পানি বাইড়া (বেড়ে) আটু (হাটু) সমান, কয়দিন অইছে পানি কমছে, ওঠানটা (আঙ্গিনা) হুকাইতে না হুকাইতেই আবার আটু সমান পানি ঠেলন (মাড়ানো) লাগের।’

ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজা বললেন, আমার বাড়ির আশপাশের কয়েকবাড়ি ছাড়া সারা গ্রামের ঘরবাড়িতে পানি। প্রথম-দ্বিতীয় দফার পানি নামতে পারে নি, এখন আরেকবার বাড়িঘরে পানি। তিনি জানালেন, গ্রামের পাশের মঈনপুরের খাল, জগন্নাথপুরের খাল, দেওলার বিলের খাল, ইব্রাহিমপুরের খাল, সদরগড় মালিহাটির খাল সব খাল বন্ধ হয়ে গেছে। ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণসহ খালের উপরে সড়ক করে সর্বনাশ হয়ে গেছে। উত্তরের দিকে পানি ঢুকলে, এই পানি আর নামে না। বিপদে আছি আমরা।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিধ সজিব আহমদ বললেন, গেল ২৪ ঘণ্টার মতই আগামী ৭২ ঘণ্টা মাঝারী ধরণের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বললেন, শুক্রবার সকালে আবারও পানি বেড়ে বিভিন্ন স্থান তলিয়ে বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হয়েছিল। দুপুরে পানি কমেছে। অনেক এলাকা থেকে পানি নেমেছে। আবার ৪৮ ঘণ্টা বৃষ্টির পূর্বাভাসও আছে। সেজন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ