
মো. হাছিব সরদার, মোংলা সংবাদদাতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাগেরহাট-২ আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের সমর্থন আদায়ে তৎপরতা জোরদার করেছেন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি জুলফিকার আলী। মন্দির র্নির্মাণ, চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং নানা উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাবেক মোংলা পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি স্থানীয়ভাবে ‘আধুনিক মোংলার রূপকার’ নামে পরিচিত।
বুধবার গভীর রাতে মোংলার মধ্য হলদিবুনিয়া রামকৃষ্ণ সেবা আশ্রমে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জুলফিকার আলী বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল । এবার সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি ঘরে চাকরি ও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।”
এ সময় তিনি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে আশ্রমে একটি নাগ মন্দির র্নির্মাণের ঘোষণা দেন।
তিনি আরও বলেন, “এই আসনে যদি বিএনপির প্রার্থী জয়ী না হন, তবে চলমান ও ভবিষ্যতের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। সুন্দরবন ও মোংলা বন্দরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য আমাদের এখানে দলীয় এমপি প্রয়োজন।”
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি মোংলার সন্তান। আপনারা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিন।”
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে তারা আপনাদের যা দিয়েছে, আমরা তার চেয়ে বেশি দিতে না পারলে আমাকে প্রশ্ন করবেন। আমি জবাব দিতে প্রস্তুত।”
সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের মোংলায় এক ইজিবাইক চালক ঋণের চাপে আত্মহত্যা করলে, জুলফিকার আলী তার বড় ছেলেকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন—যা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত একটি মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দলের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে জুলফিকার আলী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ ও প্রশাসনিক সংস্কারকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর এসব উদ্যোগ ইতোমধ্যেই হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।




