২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাতের আধারে লুট হয় চলতী নদী

spot_img

রাতের আধারে লুট হয় চলতী নদী নয়া পুলিশ সুপার এসে বন্ধ করে
দিলেন লুটের উৎসব
রোববার সন্ধ্যায় ২৬ নৌকাসহ ২২ জন আটক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

বিশ^ম্ভরপুর থানার এক পুলিশ সদস্যকে টাকা দিয়ে ইজারাবিহীন চলতি নদী থেকে নিয়মিত বালু-পাথর উত্তোলন করে প্রতিদিন কয়েকশ নৌকা রাতে বের হতো, বালু-পাথর চলে যেত বিভিন্ন মহাজনের ডিপুতে। নদীতে ড্রেজার মেশিনও চলতো। দুই পক্ষেরই প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার ব্যবসা হতো। নতুন পুলিশ সুপার এসে অবৈধ এসব কাজে কঠোর মনোভাব দেখানোয় কয়েকদিন হয় বন্ধ হয়ে গেছে এই বাণিজ্য। রোববার ২৬ টি বালু পাথর বোঝাই নৌকা আটক করেছে নৌ-পুলিশ। তাতে কমপেক্ষে ২০ লাখ টাকার বালু-পাথর রয়েছে। এসময় ২২ জন শ্রমিক ও বালু-পাথর ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।
চলতি নদীর পাড়ের কয়েকজন শ্রমিক এই প্রতিবেদককে রোববার সন্ধায় বলছিলেন, ‘এএসআই তাইজুদ্দিনকে নিয়মিত টাকা দেই, ২০০০ ফুটের সিঙ্গেল পাথরের নৌকা প্রতি পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা দিয়ে থাকি আমরা। তিনি একটি স্লিপ দেন। এই স্লিপ সাথে নিয়ে গেলে কেউ নৌকা আটকায় না। নয়া পুলিশ সুপার আসার পর আর স্লিপ দেয় না, টাকাও নেয় না। এরপরও কাল (শনিবার) কয়েকজনকে এএস আই তাইজুদ্দিন স্লিপ দিয়েছিল, কিন্তু কোন কাজ হয় নি। সদর থানার পুলিশ ও নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়, সুরমা নদী দিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করা বালু-পাথর নিয়ে যাওয়া যাবে না। এদিক দিয়ে আসলেই পুলিশ আটকাবে। পরে রাতে ২৫-৩০ টি এক হাজার থেকে ২০০০ ফুটের স্টিলবডি নৌকা বালু-পাথর নিয়ে সোনাপুর-লালপুর হয়ে করচার হাওর দিয়ে রক্তি নদী দিয়ে বের হতে চায়। কিন্তু তাতেও পার পাওয়া গেল না। লালপুর গ্রামের পাশে যেতেই এলাকাবাসী নৌকাগুলো আটক করে নৌ-পুলিশকে খবর দেয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত আট টা) নৌ-পুলিশ জব্দ তালিকা করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২৬ টি স্টিলবডি নৌকায় কমপক্ষে ১৫ হাজার সিঙ্গেল পাথর ও ২০ হাজার ফুট বালু রয়েছে। যার মূল্য কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা।
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের নোয়াগাওয়ে গৌরারং, হোসেনপুর, অমিতশ্রী, মনমতেরপুর সহ আশপাশের গ্রামের লোকজন এসব নৌকা আটক করে। পরে প্রশাসনকে খবর দিলে দুপুর ১২টার দিকে সদর থানার উপ-পরিদর্শক ও উপজেলা তহশিলদারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বাল্কহেডগুলো জব্দ করা হয়।
গ্রামবাসী জানান, নদীতে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকার পরও প্রতিদিন অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু-পাথর তুলে শতশত নৌকা তাদের গ্রামের পাশ দিয়ে যায়। এতে তাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঘরবাড়ি বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তারা নৌকাগুলো আটক করেছেন। আটককৃত বালু-পাথরের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা হবে বলে জানান তারা।
গৌরারং গ্রামের ছুরত আলী বলেন, অবৈধভাবে গাঙ থেকে বালি পাথর তুলে আমাদের গ্রামের সামনে দিয়ে যায় শত শত নৌকা। এসব নৌকা ঢেউয়ে আমাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই আমরা নৌকাগুলো আটক করেছি।
বিশ^ম্ভরপুর থানার এএস আই তাইজুদ্দিনকে প্রশ্ন ছিল, আপনার স্লিপ নিলে তো, কোথাও কেউ বালু-পাথর বোঝাই নৌকা বা বাল্কহেড আটকায় না। আজ কেন আটকালো ? তার সরল স্বীকারোক্তি এরা তো নৌ-পুলিশ। আমরাতো আটকাই নি। আপনাকে নৌকা প্রতি টাকা দেয় বালু-পাথর উত্তোলনকারীরা? উত্তরে তিনি বললেন, আমরা এর আগেও নাই- পিছেও নাই, নদী দেখে নৌ-পুলিশ। যারা এসব তথ্য দিয়েছে, তারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। আমি কারও কাছ থেকে টাকা নেই নি।
অভিযানে থাকা সুনামগঞ্জ সদর থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক পার্ডন সিংহ বলনে, আমরা খবর পেয়ে এসে যথাযথ বৈধতা না পাওয়ায় ২৬ টি নৌকা জব্দ করে সুনামগঞ্জ নিয়ে যাচ্ছি।
ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী নৌ-পুলিশের এসআই আকবর আলী রাত আটটায় জানালেন, ১২ টি নৌকা ক্যাম্পে নিয়ে এসেছি আমি। আরও অনেক নৌকা আছে। আসার পর বলা যাবে কী পরিমাণ বালু পাথর আছে। তবে ১৫ হাজার ফুট বালু ও দুই হাজার ফুট পাথর নৌকায় থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাজন কুমার দাস জানালেন, চলতি নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধই ছিল। পুলিশ আগে থেকেই এখানে কঠোর। নতুন পুলিশ সুপার আর বেশি কঠোর, কেউ অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন করে পার পাবে না। রোববার যাদের নৌকা আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাতেই নিয়মিত মামলা নেওয়া হবে। নৌকার সঙ্গে থাকা ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা নৌ-পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ