
সারিকা রহমান:
এক কৃষককে জঙ্গি সাজিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা। পরে ওই কৃষককে জামায়তে ইসলামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা পূর্বের একটি নাশকতার মামলায়(২৮৯/১৪শাজাহানপুর) চালান দেয় পুলিশ। জেলের মধ্যে বেশ কিছুদিন রাখা হয় সেলের মধ্যে। ৪মাস হাজত বাস করে জামিনে মুক্ত হয়ে দেখেন – ওই যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা জমি দখল করে নিয়েছেন। ২০১৫সালে বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ফুলকোট বামনদীঘি পাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষক ফুলকোট নজরুল ইসলাম(৪৫) ওই গ্রামের দিলবর রহমান খোকার ছেলে। একই সময়ে চাঁদার দাবিতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগে শাজাহানপুর থানায় মামলা (নং ২১ তারিখঃ ২৫সেপ্টেম্বর২০১৫), আদালতে চাঁদা দাবি ও মাছ নিধনের (১০৪সি/১৫শাজাহানপুর) মামলা সহ পরিকল্পিত অভিযোগে মামলা দেয়া হয় নজরুল ইসলামের নামে।
একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তির জেল হাজত এবং একের পর এক মামলায় থমকে যায় নজরুল ইসলামের পরিবার। ২০২৪সালের ৫আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মামলা থেকে অব্যহতি পান নজরুল ইসলাম। তবে এরমধ্যে কেটে গেছে ১০বছর। বর্তমানে জমি উদ্ধারে বিভিন্ন অফিসে ধরণা দিচ্ছেন তিনি। কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকলেও প্রায় ১০বছরের অত্যাচার মেনে নিতে পারছেন না নজরুলের পরিবার।
কৃষক নজরুল ইসলাম সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, আমি অশিক্ষিত একজন দরিদ্র কৃষক। কোনদিন কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হইনি। কিছু জমি নিয়ে ইউনুছ নামের এক ব্যাক্তির সাথে আমাদের বিরোধ ছিলো। আদালতে অনেক বছর মামলা চলার পরে আমরা রায় পাই। ২০১৫সালের মে মাসে গোপনে ইউনুছের কাছ থেকে জমি বায়না রেজিস্ট্রি করে নেয় আমরুল ইউনিয়ন যুবলীগের বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন, শাজহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা ইমদাদুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক সহ দলটির ২২জন নেতা।
জমি বায়না করে নেয়ার পর পরিকল্পিত ভাবে আমাকে জঙ্গি বানিয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশে দেন আমরুল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সহ অন্যরা। সেখান থেকেই শুরু হয় আমার উপরে নির্যাতন। থানা থেকে আমাকে নেয়া হয় জেলখানার ছোট সেলে। ৪মাস কারা লোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এসে দেখি, নজরুল ইসলাম নয়ন সহ আওয়ামী যুবলীগের ২২নেতা কর্মী আমার জমি দখল করে অন্য জনের কাছে বিক্রিও করে দিয়েছে।
এখানেই শান্ত হয়নি তাঁরা। পরিকল্পিত ভাবে আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগে, থানায় ও আদালতে পৃথক ব্যাক্তিকে দিয়ে একাধিক মামলা করান নজরুল ইসলাম নয়ন ও অন্য নেতারা।
২০২৪সালের ৫আগষ্টের পর আমার বিরুদ্ধে আনা মামলা গুলো থেকে খালাস পাই। তবে দীর্ঘ সময় কারা ভোগ ও মামলার ঘানি টানতে টানতে আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। আমি আমার জমি ফিরে পেতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছি। আমার দুটি সন্তানের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি রাস্ট্রের কাছে সাহায্য চাই।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন মোবাইল ফোনে সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, জমির বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। কৃষক নজরুল ইসলাম জঙ্গী ছিলোনা। জঙ্গী বলে পুলিশে দেয়ার ঘটনা আমার জানা নাই। সে বিষয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন বলতে পারবে।
আমরুল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন মোবাইল ফোনে সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, জমির সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নাই। সেখানে আমার এক ইঞ্চি জমিও নাই। কৃষক নজরুল ইসলাম জঙ্গি তৎপরতার সাথে জড়িত। ইউনুছের কাছ থেকে জমির বায়না করেছিলাম। কথা ছিলো ইউনুছ যদি জমির বৈধ সমস্ত কাগজ দিতে পারে তবে – আমরা জমি নিব। না পারলে নিব না। জমির বৈধ কাগজ দিতে না পারায়, আমরা বায়নার টাকা ফেরত নিয়েছি।
নজরুল ইসলামের কিছু জমি ভোগ করছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা ইমদাদুল হক। মোবাইল ফোনে তিনি সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, ইউনুছ ও নজরুলের ভাইয়ের কাছ থেকে জমি কিনে ভোগ দখল করছি। নজরুলকে পুলিশ কেন ধরেছিলো তা আমি জানি না।




