
মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম রিপন:
সারা দেশের মতো বগুড়ার ১২টি উপজেলায় শুরু হয়েছে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ। তবে শাজাহানপুরে মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাব, জনবল সংকট ও দায়িত্বহীনতার কারণে সপ্তাহটি সফলভাবে সম্পন্ন না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক নারী-পুরুষ পরিবার পরিকল্পনা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শাজাহানপুরের ১০টি ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে জনবল ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবসর বা পিআরএল-এ গেলেও পদ শূন্যই রয়ে গেছে। বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারির ঘাটতি ৩৬ জন। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ১৯টি পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র ৮ জন—শূন্য ১১টি পদ। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের একটি পদও শূন্য। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবার কল্যাণ সহকারির ৫৭টি পদে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩৩ জন, শূন্য ২৪টি।
এ অবস্থায় চলতি বছরের পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ শুরু হয়েছে সীমিত জনবল নিয়ে।
গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে মাদলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়—উপস্থিত মাত্র দুই কর্মচারী, একজন অফিস সহায়ক ও অন্যজন আয়া। পরে কেন্দ্রটিতে আসেন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আরিফুর রহমান। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি জানান, তিনি নাকি অফিসিয়াল কাজে উপজেলা কার্যালয়ে গেছেন। এ সময় সেবা না পেয়ে কেন্দ্র থেকে ফিরে যান চাঁচাইতারা এলাকার গৃহবধূ শ্যামলী বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, এ কেন্দ্রে ঠিকমতো সেবা পাওয়া যায় না। আগেও গর্ভাবস্থার সেবা নিতে এসে ব্যর্থ হয়ে জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে যেতে হয়েছিল।
খোট্রাপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়—পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মমতাজ খানম দুই নারীকে সেবা দিচ্ছেন। আয়া প্রেষণে উপজেলা কার্যালয়ে থাকায় এখানে কার্যত এমএলএসএসসহ দুইজনেই দায়িত্ব পালন করছেন। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এসময় পরিবার পরিকল্পনা প্রদর্শক হারুনকে অফিস পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় একাধিক সেবা নিতে কেন্দ্র আসা নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমারা এই কেন্দ্রে এসে তেমন সেবা পাইনা।
পৌনে ১২টার দিকে চোপিনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়—পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রিনা পারভিন সেবা দিচ্ছেন। তিনি জানান, সকালে অন্তত ৬ জন নারী সেবা নিয়েছেন। তবে এ কেন্দ্রেও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ শূন্য। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মেহেদী হাসান রিপনও মাঠপর্যায়ে থাকার কারণে কেন্দ্রে অনুপস্থিত ছিলেন।
খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে প্রায় কমবেশি একই চিত্র।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, জনবল কম থাকায় চাপ বাড়ছে। তবুও সেবা সপ্তাহ সফল করতে আমরা চেষ্টা করছি। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




