২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সুনামগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযানে চলাকালে হামলা, আহত ৪

spot_img

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ পৌর শহরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে উচ্ছেদকারী দল। এসময় ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদকারী দলকে ধাওয়া দেয়। এতে পৌরসভার চারজন কর্মচারী আহত হন। এ সময় পুলিশ সদস্যদেরও মারধর করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে পৌর শহরের স্টেশন রোডে হক রেস্তোরাঁর সামনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতি এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত সুনামগঞ্জ পৌরসভার চার কর্মচারী হলেন আনোয়ার হোসেন (২৮), আজিম উদ্দিন (৩০), শিপন মিয়া (২৭) ও আবদুল মান্নান (৩১)। তাঁরা জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ, প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ উচ্ছেদকারী দল পিছু হটেন এবং পাশের সদর থানার ভেতরে ঢুকে নিজেদের রক্ষা করেন। পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর শহরকে যানজটমুক্ত করতে এবং শহরের সড়কগুলো প্রশস্ত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে শহরের সড়কের দুই পাশে থাকা অবৈধ স্থাপনা ও ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিমের উপস্থিতিতে এই অভিযান শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিযান শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ার ও সুনামগঞ্জ ডাকঘরের সামনের সড়ক এলাকায় অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এসময় উচ্ছেদ কর্মীরা সড়কের সমসু মিয়ার ফলের দোকানের ত্রিফাল ছিঁড়ে সরিয়ে জব্দ করেন এবং দোকানের স্টিলের সাটার দা দিয়ে কুপিয়ে কাটা শুরু করেন।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদকারীদের বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সময় দেওয়ার অনুরোধ জানান। উচ্ছেদ কর্মীরা ব্যবসায়ীদের অনুরোধ রাখা যাবে না, আগে থেকেই তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে, দোকানের স্টিলের সাটার কাটতে শুরু করেন। এসময় ব্যবসায়ীরাও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা অভিযানকারী দলকে ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে উচ্ছেদকারীরা দৌড়ে সদর মডেল থানার ভিতরে প্রবেশ করেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ফল বিক্রেতা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, অভিযানে ম্যাজিস্ট্র্যাট, পুলিশ এবং পৌরসভার লোকজন ছিলেন। পৌরসভার ছেলেদের হাতে দা ছিল। প্রথমে আমার দোকানের ত্রিফালটা দা দিয়ে কুপিয়ে কেটে নিয়ে যায়। আমরা আগামীকাল বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সময় নিয়েছি। এরমধ্যে সরে যাব। কারণ আমাদের এখানে কাঁচামাল আছে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য একদিনের সময় নিয়েছি। স্যারকে বারবার বলছি, স্যার আমার দোকানের সব মাল সরিয়ে নিয়েছি। আমি দোকানের সাটারের ভিতরে আছি। এরপরেও তিনি (ম্যাজিস্ট্রেট) অর্ডার দিয়েছেন, উচ্ছেদ করতে, পৌরসভার ছেলেরা আমার দোকানের সাটার দা দিয়ে কুপিয়ে কেটে ফেলে এবং দোকানের ক্যাশের টাকা নিয়ে যায়। আমার ছেলেকেও দা দিয়ে আঘাত করে, তার পা রক্তাক্ত জখম হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার শহরের ওয়েজখালী পর্যন্ত সড়কে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বুধবার বেলা এগারোটায় পৌরসভা এবং জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার মো. রৌশন আহমেদ, মো. এসএম ইয়াছিন আরাফাত, ও সোয়াদ ছাত্তার চৌধুরী সহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বললেন, শহরকে যানজট মুক্ত করতে সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। অন্যান্য এলাকা উচ্ছেদ করে এসে আলফাত স্কয়ার ও ডাকঘরের সামনের সড়কে অভিযান পরিচালনার সময় অবৈধ দখলকারীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন উচ্ছেদকারীরা। তাৎক্ষণিক ওখান থেকে প্রশাসনের লোকজন চলে আসলেও শহরকে যানজট মুক্ত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ