২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

স্বপ্ন ভাসালো যমুনার ঢল: ফসল হারিয়ে চোখে পানি ধুনটের কৃষকের

spot_img

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:
উজানের পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে চরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে ধান, পেঁয়াজ, চিনাবাদামসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসময়ে পানি বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন যমুনা পাড়ের কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীতে জেগে ওঠা চরের বালুচরে গত কয়েক বছরে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছিল। একসময় অনাবাদি থাকা এসব জমিতে এখন গম, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন নদীভাঙা মানুষরা। কঠোর পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই স্বপ্নই ছিল তাদের বেঁচে থাকার ভরসা।
কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনার পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের নিচু জমিতে আবাদ করা ফসল তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বিঘা জমির কালো বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। এতে কৃষকদের স্বপ্ন যেন পানিতে ভেসে গেছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব বোরো ধান কেটে গবাদিপশুকে খাওয়াচ্ছেন, যাতে অন্তত কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়।
চরাঞ্চলের কৃষক আবু তালেব বলেন, অনেক কষ্ট করে জমিতে ফসল আবাদ করেছি। কিন্তু হঠাৎ পানি বাড়ায় সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন বুঝতে পারছি না কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবো।
কৃষক সামচুল হক বলেন, চরের জমিই আমাদের সবকিছু। পানি বাড়লেই সব ভেসে যায়। প্রতি বছরই এমন কষ্ট সইতে হয়।
কৃষক শাহীন আলম বলেন, পেঁয়াজ ও বাদামের আবাদ করেছি। কিন্তু পানি বাড়তে থাকলে কিছুই বাঁচবে না—সব শেষ হয়ে যাবে।
কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ঋণ করে চাষ করেছি। এখন সব তলিয়ে যাচ্ছে। কীভাবে ঋণ শোধ করবো, সেই চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
কৃষক শহীদুল ইসলাম বলেন, আর কয়েক দিন এভাবে পানি বাড়লে পুরো জমি তলিয়ে যাবে। আমাদের চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।
ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ