বিগত সময়ে বগুড়ার উন্নয়নের আশ্বাস আর ঘোষণা দিয়ে গত ১৭ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ডক্টর ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করার পর থেকে এ জেলার মানুষ আশার আলো দেখছে। এবার উন্নয়ন বঞ্চনা নয়, দীর্ঘ সময় উন্নয়ন বঞ্চিত বগুড়াবাসী এবার উন্নয়নের দাবি তুলছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বারখ্যাত বগুড়া জেলা। এ জেলায় সাত সংসদীয় আসন রয়েছে। কিন্তু বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। জেলার জন্য বিশেষ বরাদ্দ, উন্নয়ন কাজ আনতে ব্যর্থ হয়েছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাসদের এমপিরা। যে বরাদ্দ এনেছেন নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। উন্নয়নের নামে বারংবার জেলায় মন্ত্রী-এমপিরা পরিদর্শন করলেও বাস্তবায়ন হয়নি একটিও। উন্নয়নের নামে শুধু লোভই দেখানো হয়েছে, বাস্তবায়ন করা হয়নি কিছুই। শুধুমাত্র বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি বলে প্রতিহিংসায় সব উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এজেলাকে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে নতুন করে স্বপ্ন দেখেছেন এ জেলার মানুষ।

স্থানীয়রা জানায়, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বগুড়ায় হাসপাতাল, রাস্তা-ঘাট, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানাসহ যে উন্নয়ন হয়েছিল, সেটি উত্তরের মানুষের জন্য সুফল বয়ে এনেছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা ও বিমানবন্দর স্থাপনসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিলেও সেগুলো থেমে যায় শেখ হাসিনার সরকারের কারণে।

বগুড়াবাসীর দাবি, জেলার উন্নয়নে বাণিজ্যিকভাবে বিমানবন্দর চালু করা, দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগর স্থাপন, অতিদ্রুত বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন, সবজি হিমাগার নির্মাণ, কমপক্ষে চারটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ করে ও চরগুলো আধুনিকায়ন করে ট্যুরিস্ট স্পট নির্মাণ, যমুনার পাশে সার কারখানা স্থাপন, জেলায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আরও আধুনিকায়ন, করতোয়া নদী সংস্কার, শহরের যানজট নিরসন ফ্লাইওভার নির্মাণ, নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে কাঁচা সড়ক পাকাকরণ, প্রতিটি সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ফিরিয়ে আনা, খেলাধুলার জন্য আধুনিক স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, শিশুকিশোরদের জন্য বিনোদন স্পট, সাংস্কৃতিক কাজের জন্য একাধিক মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ, বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে যমুনা নদী বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণ, সুদের কারবার বন্ধ করা, মাদক, জুয়া বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, তরুণদের শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া মুখী করে গড়ে তোলা, বঞ্চিত হিসেবে চাকরির ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট গড়া, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহজশর্তে সরকারি ঋণ দেয়াসহ বেশ কিছু বিষয় উল্লেখ করেন তারা।