২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশ ইস্যুতে বিপাকে আইসিসি চেয়ারম্যান, বসছেন বিসিসিআইয়ের সঙ্গে

spot_img

ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না চাওয়ার অনড় অবস্থান জানিয়ে আইসিসিকে দ্বিতীয়বার চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। এখনও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের জবাবের অপেক্ষায়। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থাটির চেয়ারম্যান জয় শাহ কিছুটা বিপাকে পড়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। যা নিয়ে আজ (রোববার) তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সঙ্গে বসতে যাচ্ছেন।

আজ ভাদোদারায় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারত-নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হবে। সেখানে বিসিসিআইয়ের সাবেক সচিব জয় শাহকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বারোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। এনডিটিভি বলছে, বিসিবি আইসিসিকে দেওয়া প্রথম চিঠিতে ভারতে খেলতে আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছিল, ফলে তাদের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু বিসিবির দ্বিতীয় চিঠি পুরো প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে।

বাংলাদেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, লজিস্টিকসের সীমাবদ্ধতাজনিত বিষয়ের ঊর্ধ্বে উঠে গেছে আসন্ন বিশ্বকাপে তাদের অংশ নেওয়ার ইস্যুটি। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার কারণে জাতীয় মর্যাদা এবং মানুষের অনুভূতি-মনস্তত্বও এতে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে ভারতে ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে ক্রিকেটার থেকে শুরু করে কোচ, সাপোর্ট স্টাফ এবং অফিসিয়ালসহ সবার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায় তারা। একইসঙ্গে এই বার্তাটাও পরিষ্কার যে, এখন বিষয়টি শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়, মর্যাদারও প্রশ্ন। যা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে জয় শাহ’র সামনে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিসিবির চিঠির জবাবে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি আইসিসি। প্রথমে তারা অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে চায়। যেখানে বিসিসিআই এবং আইসিসির ব্যবস্থাপনা দলের মাঝে পুরো টুর্নামেন্ট এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশ কেন নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছে এবং কী কারণে আশ্বাসগুলো তাদের কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি তা চিহ্নিত করাই লক্ষ্য। বাংলাদেশকে দেওয়া আইসিসির আগের বার্তাগুলো কি শুধু দাপ্তরিক ভাষায় বলা ছিল, সেখানে সহমর্মিতার ঘাটতি ছিল কি না এসব প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হবে।

এই মুহূর্তে জয় শাহ’র ভূমিকাটা এখানে অনেকটা আম্পায়ারের মতো, যেখানে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের মুখপাত্র হিসেবে আচরণ করার সুযোগ নেই। বিশ্ব ক্রিকেটের নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে তাকে অনিশ্চয়তা দূর করে আস্থা অর্জনের জায়গায় অবস্থান নিতে হবে। এনডিটিভির মতে, কঠিন কাজটা হবে সরাসরি বাংলাদেশ বোর্ডের কাছে পরিকল্পনাটা এমনভাবে তুলে ধরা, যাতে তারা বিষয়টি চাপের মনে না করে। তাদের হাতেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখতে হবে, পাশাপাশি বিশ্বকাপের কাঠামো ও বিশ্বাসযোগ্যতা যেন অক্ষুণ্ন থাকে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

dhakapost

এর আগে বাংলাদেশ যোগ্যতা অর্জন করেই ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের সমীকরণ থেকে তাদের বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর যদি তাদের বাদ দেওয়ার চিন্তা করা হয় আইসিসিকে আইনি ও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে পড়তে হবে। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত আসতে হবে আইসিসি বোর্ডে ভোটাভুটির মাধ্যমে। যা উপমহাদেশীয় ক্রিকেট কাউন্সিল এসিসিতেও অস্থিরতা তৈরি কবে। ভবিষ্যতের জন্যও তৈরি হবে বিপজ্জনক উদাহরণ।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ