
আব্দুল হান্নান:
আর মাত্র ১ দিন পর আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণার অভাব দেখা গেছে। ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। ফলে ভোটের আগমুহূর্তেও জনমনে রয়েছে বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা।
নির্বাচনের দিন সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের পাশাপাশি আলাদা গোলাপি রঙের ব্যালটে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেবেন। তবে গণভোটের উদ্দেশ্য, প্রক্রিয়া ও কার্যকারিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিষ্কার ধারণা নেই বলে জানা গেছে।
শাজাহানপুর উপজেলার কচুয়াদহ গ্রামের রাজা মিয়া বলেন, “হ্যাঁ দিলে কী হবে, না দিলে কী হবে—তা জানি না।”
বামুনিয়া তালপুকুর গ্রামের সেকেন্দার আলী বলেন, “হ্যাঁ-না ভোট দিতে হবে কীভাবে, সেটাও এখনো বুঝি না।”
বড়পাথার গ্রামের মুন্টু মিয়া সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, “হ্যাঁ জয়ী হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে, না জয়ী হলে আওয়ামী লীগ জয়ী হবে—এমন কথাও শুনছি। আসলে বিষয়টি নিয়ে আমিও ধোঁয়াশায় আছি।”
মাদলা ইউনিয়নের লক্ষ্মীকোলা গ্রামের আব্দুল মাজীদ সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, “হ্যাঁ ভোটে কিছু ভালো ও কিছু খারাপ দিক আছে বলে শুনেছি। তবে পরিষ্কার ধারণা নেই।”
এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তাইফুর রহমান সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তিনি দাবি করেন, ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ অবগত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। আলাদা গোলাপি ব্যালটে চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট চার বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রভাব সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রচারণা হয়নি—এমন অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের মতে, বিষয়ভিত্তিক ব্যাখ্যার চেয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারই বেশি হওয়ায় ভোটারদের একাংশের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।




