২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শাজাহানপুর থানার মানবিক উদ্যোগে হারানো শিশু ফিরলো আপন ঠিকানায়

spot_img

এফ.এম রিপন আহম্মেদ :

একটু আন্তরিকতা, একটু সহানুভূতি, আর কিছুটা মানবিক সহযোগিতা—এই তিনটির মেলবন্ধনই কখনও কখনও হয়ে ওঠে কারও জীবনে আলোর দিশা। তেমনই এক ঘটনার সাক্ষী হলো বগুড়ার শাজাহানপুর থানা, যেখানে পুলিশের সময়োচিত ভূমিকা ও স্থানীয় এক যুবকের সহানুভূতির কারণে ঘরে ফিরল গাইবান্ধার এক নয় বছরের শিশু।

ঘটনাটি শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বগুড়া শহরের কেন্দ্রস্থল চারমাথা এলাকায় কাঁদতে কাঁদতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল এক শিশু। চোখে মুখে ভয় আর অনিশ্চয়তা। নাম তার মুরাদ, বয়স মাত্র নয়। অশ্রুসিক্ত মুখে কারো কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে পারছিল না সে। ঠিক তখনই এগিয়ে আসেন মোঃ শাহাদাত হোসেন নামের এক যুবক, যিনি শাজাহানপুরের সিপি কোম্পানিতে চাকরি করেন। শিশুটির প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে শাহাদাত তাকে শান্ত করেন এবং তার পরিচয় জানার চেষ্টা করেন।

তবে শিশুটি কিছুই স্পষ্ট করে বলতে পারছিল না। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে শাহাদাত শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন শাজাহানপুর থানায়। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে, এবং অনেক ধৈর্য ও কৌশলে শিশুটির কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনেন। এরপরই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি—জেলা, থানা, লোকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবখানে ছড়িয়ে দেওয়া হয় খবরটি।

অবশেষে মিললো সাফল্য। শিশুটির নাম মুরাদ, বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে। পিতার নাম লাভলু। পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ছুটে আসেন শাজাহানপুর থানায়। সন্তানকে জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ দেখে বাবা-মায়ের চোখে পানি, কিন্তু সেই পানিতে ছিল স্বস্তি, কৃতজ্ঞতা আর সীমাহীন ভালোবাসা।

শিশু মুরাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের হাতে তুলে দেয় শাজাহানপুর থানা পুলিশ। উপস্থিত সবাই সেই মুহূর্তে দেখতে পেয়েছে এক মানবিক দৃশ্য—একটি হারিয়ে যাওয়া ছোট্ট প্রাণ ফিরে পেল তার নিরাপদ আশ্রয়, একটি পরিবার ফিরে পেল তাদের নিখোঁজ সদস্যকে।

এ প্রসঙ্গে শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, “মানুষের সেবা করাই পুলিশের দায়িত্ব। শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরাও আনন্দিত।”

এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত—যেখানে একজন সাধারণ নাগরিক ও পুলিশ প্রশাসনের সম্মিলিত মানবিক প্রচেষ্টা একটি শিশুকে এনে দিল নিরাপত্তা, একটি পরিবারকে এনে দিল নতুন করে বেঁচে থাকার স্বস্তি। আর সেই সাথে সমাজকে শিখিয়ে গেল—মানবতা এখনো বেঁচে আছে, হাত বাড়ালেই মেলে সহায়তা।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ