২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

স্কুলে বিধ্বস্ত বিমান কাঁদছে দেশ

spot_img

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিশাল ক্যাম্পাস এখন এক ট্র্যাজেডির গল্প। শিক্ষার্থীদের কোলাহল এখন আর নেই। ঘরে ঘরে কাঁদছে অভিভাবকরা।

ক্যাম্পাসে আছে সব ধরনের সুবিধা। শ্রেণিকক্ষ ও ছাত্রাবাস ভবন আছে সাতটি। প্রথম থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে পাঠদান হয়ে থাকে এই ক্যাম্পাসে। গতকাল স্কুলে চলছিল দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল দুপুর সোয়া ১টার দিকে। অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ভবনের সামনে আসে। আবার কেউ কেউ মাঠে দৌড়াদৌড়ি করছিল। এমন সময় হঠাৎ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণরত যুদ্ধবিমান আছড়ে পড়ে স্কুল ভবনে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা…

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গগনবিদারী আহাজারিতে আশপাশ থেকে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে ধরে যায় আগুন। আগুন ও ধোঁয়ার কু-লী দেখে আঁতকে ওঠেন সবাই। দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাস থেকে সেনাবাহিনী ও দমকলকর্মীরা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে।

একদিকে আগুন নেভানোর প্রাণান্তর চেষ্টা, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আহাজারি। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর বিধ্বস্ত বিমানের আগুন নির্বাপণ করা হয়। তবে এর আগেই কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পাইলট অঙ্গার হয়ে যান। ঘটনাস্থল ও হাসাপাতালে মারা যায় ২২ জন। গুরুতর আহত ১৬৪ জন।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো বাংলাদেশে। শোকের মাতম চলছে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের খোঁজ নিতে পাগলের মতো ছুটে আসেন। আদরের ধনকে না পেয়ে তারা এক হাসপাতাল থেকে ছুটে চলেন আরেক হাসপাতালে। দগ্ধ সন্তানদের দেখে মূর্ছা যান অনেকে। আবার প্রিয় সন্তানের লাশ দেখে সহ্য করতেই পারছিলেন না অভিভাবকরা। তাদের সান্ত¡না দিতে পারছিলেন না কেউ। সেনা, বিমান, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতনরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। হাসপাতালে যান বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপাপ্ত উপদেষ্টারা। আহতদের জন্য রক্ত চেয়ে আকুল আবেদন করেন শিক্ষক, অভিভাবক, প্রশাসনের লোকজন ও চিকিৎসকরা। আজ মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

ঘটনার পর সরেজমিন দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি হাজার হাজার উৎসুক লোকজন ভিড় করে মাইলস্টোন কলেজের দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে। মাইলস্টোনের কলেজে শিক্ষার্থীরাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নানাভাবে সহায়তা করেন। আরও সহায়তা করেন মেট্রোরেলের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং স্থানীয় লোকজন। তবে উৎসুক জনতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খেতে হয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে। দুর্ঘটনার পরপর উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। উত্তরাসহ আশপাশের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হতাহতদের উদ্ধার করা শুরু করে। পরে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় বিজিবি ও সেনাবাহিনী। বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে হতাহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

যেভাবে ঘটে দুর্ঘটনা : বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমানটি গতকাল দুপুর ১টা ৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে। এ সময় বিমানটি চালাচ্ছিলেন পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম। উড্ডয়নের ১২ মিনিটের মাথায় (১টা ১৮ মিনিটে) উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমান আকস্মিকভাবে বিধ্বস্ত হয় প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের ক্লাস হওয়া ভবনে। ভবনটির নাম হায়দার আলী ভবন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী হতাহত হয়েছে। বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত ও দগ্ধ হয়েছে ১৬৪ জন। এর মধ্যে ৬৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি সদস্যদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। নিহতদের বেশিরভাগই ঘটনাস্থলে মারা যায়। এ ঘটনায় বিমানটির পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগরও মারা গেছেন। গতকাল দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এ কে খন্দকার ঘাঁটি থেকে বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে এ ঘটনা ঘটে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজে অংশ নেন ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ও পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, সেনা ও বিমানবাহিনীর এবং পুলিশ সদস্যরা। সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয়রাও। এ ঘটনায় বিমানবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আলাদা আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ